
জন্ম থেকেই চোখে আলো নেই নওগাঁ সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের মো. শাকিলের। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা তাঁকে পড়াশোনা থেকে দূরে রাখতে পারেনি। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তবে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরি পাচ্ছিলেন না শাকিল।
অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে সেকশন অফিসার পদে চাকরি পেয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাকিলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর চাকরির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শাকিলের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। নওগাঁ সদর উপজেলার মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদলগাছীর বালুভরা উচ্চবিদ্যালয় ও বদলগাছী সরকারি কলেজ থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করেন তিনি।পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
সম্প্রতি নিজের শিক্ষাজীবন ও সংগ্রামের কথা নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের কাছে তুলে ধরেন শাকিল। তাঁর কথা শুনে শাকিলের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেন। পরে বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
শাকিলের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে ছোট ভাই সাব্বির ও বন্ধু গৌতম শ্রুতিলেখক হিসেবে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন।
শাকিল বলেন, লেখাপড়া শেষ করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে গিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে চাকরি পাননি। এতে একপর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।
সম্প্রতি নিজের শিক্ষাজীবন ও সংগ্রামের কথা নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের কাছে তুলে ধরেন শাকিল। তাঁর কথা শুনে শাকিলের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেন। পরে বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।