বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ রাতে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে নলমুড়া গ্রামে
বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ রাতে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে নলমুড়া গ্রামে

পাবনায় বজ্রপাত

শখ করে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন আটজন, ছয়জনেরই মৃত্যু

শখের বশে বিকেলে বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন শিশু–কিশোরসহ আটজন। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। তখন সবাই বাড়ির পথে রওনা দেন। পথিমধ্যে বজ্রপাতে মারা গেলেন ছয়জন। বাকি দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া গ্রামের পাশে সোনাপাতিল বিলের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ছয়জন হলেন জেলা সদরের মালঞ্চি ইউনিয়নের গজমতিকুণ্ডা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২২), নলমুড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন (২২), একই গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে মিজান হোসেন (১২), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ ইসলাম (১০), শাহাদুল ইসলামের ছেলে মো. আবদুল্লাহ (১৮) ও ইবাদুল ইসলামের ছেলে ইমন ইসলাম (১৪)।

আহত দুজনের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে। তিনি হলেন ইউনিয়নের গজমতিকুণ্ডা গ্রামের আতাপ আলীর ছেলে রিপন আলী (৩২)।

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আহত দুজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি মর্মান্তিক। যারা মারা গেছে, আহত হয়েছে, কেউ পেশাদার মৎস্যজীবী নয়। সবাই শখের বশে মাছ ধরতে গিয়েছিল। এর মধ্যেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আমরা খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও দাফনের ব্যবস্থা করছি।
কবির আহম্মেদ, চেয়ারম্যান, মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদ

রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথম আলোকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে মারা যাওয়া ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে শিশু–কিশোরসহ আটজন সোনাপাতিল বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে যান। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বিলের রাস্তা ধরে তাঁরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা যান। গুরুতর আহত হন আরও দুজন।

হতাহত সবাই শখের বশে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। নিহত আবদুল্লাহর বাবা শাহাদুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেটারা শখ করে মাছ ধরতি গেছিল। কী হতে কী হলো বুঝলেম না। বুকটা ফাটে যাচ্ছে।’

বজ্রপাতে একসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এলাকা। মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক। যারা মারা গেছে, আহত হয়েছে, কেউ পেশাদার মৎস্যজীবী নয়। সবাই শখের বশে মাছ ধরতে গিয়েছিল। এর মধ্যেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আমরা খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও দাফনের ব্যবস্থা করছি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

আহত দুজনের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। রাত নয়টার দিকে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, যাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরজন আশঙ্কামুক্ত।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পাবনা সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহমদ আলী সরকার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মারা যাওয়া ও আহত ব্যক্তিদের সবাই কৃষক পরিবারের সন্তান।

বিষয়টি নিয়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটে কথা হয় পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, রাস্তায় আছি। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাড়িতে যাব। বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ আছে। তাৎক্ষণিক টাকাগুলো হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনে আরও সহায়তা করা হবে।’