গাজীপুরের শ্রীপুরের সাফারি পার্কের প্রধান ফটক
গাজীপুরের শ্রীপুরের সাফারি পার্কের প্রধান ফটক

সাফারি পার্কে বেড়াতে গিয়ে দুই সন্তানসহ ‘মারধরের শিকার’ নারী

গাজীপুর সাফারি পার্কে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা–কাটাকাটির জের ধরে এক নারী পর্যটক, তাঁর দুই ছেলে ও গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পার্কের অস্থায়ী (আউটসোর্সিং) এক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী। বরখাস্ত হওয়া কর্মীর নাম মো. ফরহাদ।

ভুক্তভোগী পর্যটক সালমা মোস্তারী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শনিবার সাফারি পার্কে প্রবেশ করেন। বিভিন্ন বন্য প্রাণী দেখার জন্য তাঁরা পার্কের পর্যটন বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। গাড়িতে ওঠার সময় ভেতরে ময়লা-আবর্জনা থাকার বিষয়টি তাঁরা পার্কের কর্মীদের জানান। বিষয়টি নিয়ে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁদের বহনকারী গাড়িটি নির্দিষ্ট স্থানে না থামিয়ে সেটি পার্ক কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্টিলের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে সালমা মোস্তারী নিজে, তাঁর দুই কিশোর ছেলে এবং গাড়িচালক মো. রাসেল আহত হন।

সালমা মোস্তারী দাবি করেন, তাঁর গলায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের মালা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে থাকা ৮০ হাজার টাকা চুরি করে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর ও দুই ছেলের আইফোন নিয়ে মাটিতে ফেলে ভাঙচুর করা হয়েছে। মারধরের পর ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সাফারি পার্কের একটি অফিসকক্ষে তাঁদের আটকে রাখা হয়। পরে কোনো উপায় না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন তাঁরা। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা–পুলিশ সাফারি পার্কে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
সালমা মোস্তারী শনিবার রাত সোয়া ১০টায় বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে বন বিভাগের নির্ধারিত পোশাক পরে দায়িত্বরত মো. মমিন নামের সাফারি পার্কের একজন কর্মচারীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ওই নারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের মো. মুমিন নামের একজন স্টাফকে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তাঁকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমাদের স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয় আলোচনা করার জন্য। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের আউটর্সোসিং কর্মচারী মো. ফরহাদ নামের একজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমকে একাধিকবার কল দিলে তিনি ধরেননি।