কালো রঙের এসব গমের ছড়া ভাঙলে দেখা যায়, তাতে গম নেই। আর যদি থাকেও তা একেবারে শুকনা।

রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় গমখেতে ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ রোগে গমের ছড়ার রং প্রথমে সাদা এবং পরে কালো হয়ে গমের দানা শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর রাজবাড়ীতে মোট ৮ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ করা হয়েছিল। এবার আবাদ করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, পাংশা উপজেলায় ৩ হাজার ৩৭০ হেক্টর, কালুখালী উপজেলায় ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৪ হাজার ১৮০ হেক্টর এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় গমের আবাদ করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে নভেম্বর মাসে গমের আবাদ করা হয়। মধ্য মার্চ থেকে শুরু করে এপ্রিল মাসের শুরুতে গম কাটা হয়।
এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিনে রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় মাঠভর্তি গমের খেতে দেখা যায়, অধিকাংশ খেতে গমে সোনালি রং ধরেছে। তবে অনেক গমখেতে গমের ছড়া কালো রং ধারণ করেছে। কালো রঙের এসব গমের ছড়া ভাঙলে তাতে গম নেই। আর যদি থাকেও তা একেবারে শুকনা। এই রোগের নাম ব্লাস্ট রোগ। ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পুরো জেলাতেই এই রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর, বসন্তপুর, শহীদ ওহাবপুর প্রভৃতি ইউনিয়নের মাঠগুলোতে আক্রান্ত গমখেতের সংখ্যা বেশি।
জহির রাজ নামের এক চাষি বলেন, ‘বসন্তপুর ইউনিয়নের রাজাপুর মাঠে তিন একর জমিতে আমার শ্বশুর গমের আবাদ করেছিলেন। এতে ১২০ মণ গম পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খেতে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গমের মাথা কালো হয়ে গেছে। গমের ছড়ার ভেতর অপুষ্ট গমের দানা। কোনো কোনোটায় গমের দানা নেই। এতে ১২০ মণের পরিবর্তে ১০ থেকে ১৫ মণ গম পাওয়া যেতে পারে। তাহলে বোঝেন অবস্থা। এত বড় লোকসান হলে কৃষক বাঁচবেন কীভাবে। এই এলাকায় অধিকাংশ খেতেই এই রোগ দেখা দিয়েছে। খেতে ওষুধও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে তেমন একটা লাভ হয়নি।’
রাজাপুর গ্রামের চাষি ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘করোনা যাওয়ার পর থেকে হাতের অবস্থা ভালো না। এখন প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। টাকা-পয়সা খরচ করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গম আবাদ করেছি। আমার এক একর জমিতে এই রোগ হয়েছে। কীভাবে কী হলো বুঝতে পারছি না। রোগ হওয়ায় গমের উৎপাদন হবে না বললেই চলে। আমার অনেক টাকা লোকসান হয়ে যাবে।’
সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের চাষি আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমার খেতে অনেক গম এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এসব গাছ দেখে মনে হচ্ছে গম পেকে গেছে। কিন্তু আসলে তা নয়। এসব গমের শিষের ভেতরে কিছু নেই। এভাবে গমের ক্ষতি হওয়ায় আমাদের আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’
জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সদর উপজেলার প্রায় ১০ হেক্টর জমির গম আক্রান্ত হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অন্য উপজেলায় ব্লাস্ট রোগে আক্রমণের বিষয়ে কোনো খবর আসেনি। বারি ৩৩–এর বাইরে অন্য গম আবাদ না করার জন্য আমরা পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ, এই গম গরমসহিষ্ণু। সহজে রোগে আক্রান্ত হয় না। এ ছাড়া আক্রান্ত খেতের গাছ কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি।’