সিলেটে বাজার দর

সবজি, ডিম–মুরগির দাম চড়া

ক্রেতারা বলছেন, বাজার করতে গেলে বিক্রেতারা জ্বালানি তেলের দামের দোহাই দিয়ে বাড়তি দাম চান। তবে সে তুলনায় তাঁদের আয় বাড়েনি।

  • ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০–৩৫ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • ডিমের হালি একলাফে ১৮ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • বরবটি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ৭৫-৮৫ টাকা,

  • ৪০–৫০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

সিলেটে মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়। সপ্তাহখানেক আগেও প্রতিটি ডিম সাড়ে ৯ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে ডিমের হালি একলাফে ১৮ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। এক সপ্তাহ আগেও সিলেটে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়।

ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০–৩৫ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫–২০ টাকা পর্যন্ত। মাছের দাম আকারভেদে কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম বাড়েনি।

গতকাল মঙ্গলবার সিলেটের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বাজারের ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন বাজার করতে গেলে বিক্রেতারা জ্বালানি তেলের দামের দোহাই দিয়ে বাড়তি দাম চান। তবে সে তুলনায় ক্রেতাদের আয় বাড়েনি। এতে বাড়তি বোঝা চাপছে ক্রেতাদের ওপর।

সিলেটের লালবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আকারভেদে রুই মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, বড় কাতলা মাছের কেজি ৪০০ টাকা, বোয়াল মাছের কেজি ৪০০ টাকা, গ্রাসকার্পের কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

লালবাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সব মাছের দাম বেড়েছে। কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে মাছের দাম। আগে যে মাছ ২৭০ টাকা কেজি কিনে আনতাম, সেগুলো এখন প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় আনতে হয়। এ জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নিতে হচ্ছে।’

লালবাজারের ছমির পোলট্রি দোকানে গতকাল বিকেলে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া লাল ও সোনালি মুরগি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছিল আকারভেদে ২৮০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

এদিকে ডিমের আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০০টি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩৮০ টাকায়।

মেসার্স মহানগর ডিমের আড়তের পরিচালক মজনু মিয়া বলেন, চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে ডিমের দাম বেড়েছে। ডলারের দাম বাড়ার কারণে মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে আরও বেড়েছে ডিমের দাম। গত ১০–১২ দিনের ব্যবধানে ১০০ ডিমে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেড়েছে। এসব ডিম খুচরা ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করে লাল ডিম প্রতিটি বিক্রি করছেন ১৪ টাকায়। আবার হাঁসের ডিম বিক্রি করছেন ১৬–১৭ টাকায়।

এদিকে সবজির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সবজির বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে।

সিলেটের বন্দরবাজার ব্রহ্মময়ী বাজারের ব্যবসায়ী সাদেক হোসেন বলেন, ১০ দিনের ব্যবধানে বেড়েছে সব সবজির দাম। প্রতি কেজি টমেটো আগে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। বরবটি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ৭৫-৮৫ টাকা, ৪০ থেকে ৫০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। বেড়েছে কাঁচা পেঁপে, পটোল, বেগুন, কাঁচকলা, করলা, কাঁকরোলসহ অন্যান্য সবজির দামও।

নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ কুমার শীল বলেন, আগে ছোট আকারের লাউ ২৫–৩০ টাকায় কেনা গেলেও এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকার নিচে লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সবজিসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু আয় বাড়েনি। এখন টিকে থাকাই দায় হয়ে গেছে।

জানতে চাইলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার সাদাত প্রথম আলোকে বলেন, কেউ যাতে ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়াতে না পারেন, সে জন্য তদারক করা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ দাম বাড়ালে, তাঁরা তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেবেন।