চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার অন্যতম ভোগান্তির স্থান প্রবর্তক মোড় পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ রাত ৮টায়
চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার অন্যতম ভোগান্তির স্থান প্রবর্তক মোড় পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ রাত ৮টায়

চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরীতে ‘কিছুটা’ পানি জমেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ও হিজড়া খালের সম্প্রসারণ কাজ পরিদর্শনে এসে এ মন্তব্য করেন তিনি। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রবর্তক এলাকায় আজ সকালেও হাঁটুসমান থেকে কোমরসমান পানি ছিল।

প্রতিমন্ত্রী জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময়ও প্রবর্তক মোড়ের বদনা শাহর মাজারের সামনে গোড়ালি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত পানি ছিল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। প্রতিমন্ত্রী পানি মাড়িয়ে প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালের কালভার্টের ওপর অবস্থান করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমলেও সঠিক সময়ে পানি আবার নিষ্কাশিত হয়ে গেছে। আমি নিজে হেঁটে যে পানির মধ্য দিয়ে এসেছি, সেটি ৬০ ফুটও হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গায় পানি ছিল।’

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি গণমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আপনারা যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বলা হয়েছে যে চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে, আমি সরেজমিনে দেখলাম, সন্ধ্যার পর থেকে চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম শহর স্বাভাবিক ও সুন্দর আছে, যেমন ছিল, তেমনই আছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল পুনর্নির্মাণের সময় স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে একটি রিটেইনিং ওয়াল তৈরি করতে হয়। এই খালেও ঠিক তেমন একটি ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ধারণা ছিল, ১৫ মের মধ্যে তারা কাজ শেষ করে এই ব্যারিকেড সরিয়ে খালটি সচল করবে; কিন্তু তার আগেই অস্বাভাবিক বৃষ্টি হয়। বর্ষাকালের আগেই এমন অতিবৃষ্টি হবে, এটি কেউ ধারণা করেনি। ফলে দু-এক দিন এলাকাবাসী কিছুটা কষ্ট পেয়েছেন। তবে এখন পানিনিষ্কাশিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ রাত ৮টায়

মীর শাহে আলম বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তারা স্টিল স্ট্রাকচারের এই ব্যারিকেড অপসারণ করে খালটি পুরোপুরি সচল করে দেবে। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর, শুষ্ক মৌসুম শুরু হলে তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী খালটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে। এটিই পুরো পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র।

চট্টগ্রাম শুষ্ক মৌসুমের মতোই আছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আমার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আমাকে সরেজমিন দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি এসে দেখলাম এবং আবারও বলছি, চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যেমন থাকে, এখনো তেমনই আছে। শুধু প্রবর্তক মোড় এলাকায় খাল নির্মাণকাজের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা হয়েছিল, যা এখন অনেকটাই নিষ্কাশিত হয়েছে।’

পানি ঢুকে পড়েছে রিয়াজউদ্দিন বাজারের একটি দোকানে। গতকাল বেলা একটায়

এর আগে জলাবদ্ধতার কারণে কষ্টের শিকার হওয়ার চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিন চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ মুহূর্তে চট্টগ্রামের মানুষ পানিতে ভাসছে। সাধারণ মানুষ, যাদের বাসা ছিল না, তাদের জীবন আসলেই আক্ষরিক অর্থে পানিতে ভাসছে। চট্টগ্রামজুড়ে গলা পর্যন্ত পানি।

মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা। গতকাল বেলা তিনটায় প্রবর্তক মোড় এলাকায়

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরীর অন্তত ২০টি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রবর্তক, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি, চান্দগাঁও, জামালখান, এ কে খান, ইস্পাহানি সি গেট, সাব–এরিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা।

এই জলাবদ্ধতায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোথাও বেলা ১১টা থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি সময় পানি নামেনি, আবার কোথাও ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে সরে যায়। ততক্ষণে রাস্তাঘাট, অলিগলি ও দোকানপাট পানিতে ডুবে গিয়ে থমকে যায় নগরীর স্বাভাবিক গতি। অনেক সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।

নগরবাসীর এই দুর্ভোগ নতুন নয়। গত পাঁচ বছরে অন্তত ৪০ বার চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা একইভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।