কক্সবাজারের টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকায় নাফ নদীতে অজ্ঞাতপরিচয় একটি লাশ ভেসে এসেছে। আজ রোববার সকাল নয়টার দিকে লাশটি ওই এলাকায় ভেসে আসে। তবে বেলা একটা পর্যন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভেসে আসা লাশটির গায়ে সামরিক পোশাক দেখা গেছে। চেহারা ও পোশাক দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি মিয়ানমারের নাগরিক। এরই মধ্যে পচন ধরেছে লাশটির।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল গনি প্রথম আলোকে বলেন, সকালে জোয়ারের পানিতে জালিয়াপাড়া স্লুইসগেট ও কেওড়া বাগানসংলগ্ন এলাকায় তিনটি লাশ ভেসে আসে। এর মধ্যে দুটি লাশ ভেসে গেলেও একটি লাশ কেওড়াবনে আটকে পড়ে।
টেকনাফ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত চলছে। নদীতে ভাসা লাশ ওই সংঘাতে নিহত কারও হতে পারে বলে ধারণা আবদুল গনির।
জানতে চাইলে টেকনাফ নৌ পুলিশের পরিদর্শক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তিনি টেকনাফের বাহারছড়া এলাকায় অভিযানে রয়েছেন। লাশ ভাসার বিষয়ে তিনি কোনো সংবাদ পাননি। তিনি আরও বলেন, নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। ফলে নদীতে কোনো লাশ ভেসে এলেও মিয়ানমারের কোনো নাগরিকের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কয়েক মাস ধরে সংঘাত চলছে। সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যসহ ৩৩০ জনকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২৮৮ জনকে ২৫ এপ্রিল ফেরত পাঠানো হয়। ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত পালিয়ে আসেন আরও ১৩৪ জন।