চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল ভবনের ৩য় তলায় বিস্ফোরণে লন্ডভন্ড রান্না ঘর। আজ সকাল সাড়ে ১০টায়
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল ভবনের ৩য় তলায় বিস্ফোরণে লন্ডভন্ড রান্না  ঘর। আজ সকাল সাড়ে ১০টায়

চট্টগ্রামের হালিশহরে বিস্ফোরণ, ঢাকায় নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের হালিশহরে বিস্ফোরণে দগ্ধ রানী আক্তারের (৪০) মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লা এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁদের স্বজন মো. মকবুল হোসেন।

মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার সময় রানী আক্তার মারা গেছেন। দগ্ধ পরিবারের সদস্যদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া থানা এলাকায়। নিহতের লাশ বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। বাকিদের ঢাকার দিকে নেওয়া হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি।’

এর আগে আজ ভোরে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় বিস্ফোরণ হয়। এরপর আগুন ধরে যায়, যা ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিস্ফোরণে পর আশপাশের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের দরজা, জানালা ভেঙে যায়। আজ সকাল ১০টায়

বিস্ফোরণে দগ্ধ বাকি ৮ জন হলেন শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), উম্মে আইমন (৯), আয়েশা আক্তার (৪) ও পাখি আক্তার (৩৫)। বার্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন, পাখি আক্তার ও রানী আক্তারের শ্বাসনালির শতভাগ পুড়ে গেছে। মো. শিপনের শ্বাসনালির ৮০ শতাংশ পুড়েছে। মো. সুমন ও মো. শাওনের পুড়েছে ৪৫ শতাংশ। তিন শিশু—মো. আনাস, উম্মে আইমন ও আয়েশা আক্তারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত বলেন, হালিশহর থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ অবস্থায় ভোরে ৯ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের অবস্থা খুবই শঙ্কাজনক। তাই তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।