কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সাঁথিয়ার করমজা পশুর হাটে বেড়েছে গরুর আমদানি। মঙ্গলবার হাটের দিনে
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সাঁথিয়ার করমজা পশুর হাটে বেড়েছে গরুর আমদানি। মঙ্গলবার হাটের দিনে

বেড়া–সাঁথিয়া

বাড়ি থেকে বিক্রি কম, পশু হাটে তুলতে চান বেশির ভাগ খামারি

কোরবানি সামনে রেখে এক বছর ধরে একটি ষাঁড় পালন করেছেন পাবনার বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখা মহল্লার হাতেম আলী শেখ। ইতিমধ্যে কয়েকজন ব্যাপারী তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেড় লাখ টাকা দাম বলেছেন ষাঁড়টির। কিন্তু সেই দামে তিনি ষাঁড় বিক্রি করেননি। তাঁর আশা, ষাঁড়টি হাটে তুললে অন্তত পৌনে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। যদিও গত বছর একই আকারের ষাঁড় তিনি ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন।

হাতেম আলী বলেন, ‘গরু পালনের খরচ ম্যালা বাড়িছে। এবার আমরা গত বছরের চাইতে বেশি দাম আশা করতেছি। এবার গত বছরের চাইতে দামও বেশ ভালো। তাই এবার বাড়িতে বইস্যা ব্যাপারীর কাছে গরু বেচবার চাতেছি না। আমার মতো এলাকার বেশির ভাগ খামারি এবার ব্যাপারীর কাছে গরু না বেইচ্যা হাটে তোলার চিন্তা করতেছে।’

দেশের অন্যতম গবাদিপশু উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বেশির ভাগ খামারি হাতেম আলীর মতো এবার বেশি দামে গরু বিক্রির আশা করছেন। ব্যাপারীরা এবারও কোরবানির প্রায় এক মাস আগে থেকেই বেড়া ও সাঁথিয়ার বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু কেনার চেষ্টা করলেও বেশি দাম প্রত্যাশার কারণে কিনতে পারছেন কম। ইতিমধ্যেই দুই উপজেলার পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। তবে হাটগুলো এখনো জমে ওঠেনি। গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানির পশু ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় বেড়ার করমজা পশুর হাটেও কোরবানির পশু উঠতে শুরু করেছে। সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার এই হাট বসে। সেই হিসাবে ঈদের আগে আজকের হাট ছাড়া মাত্র দুটি হাট আছে। মঙ্গলবার হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর গরু উঠলেও বেচাকেনা এখনো জমেনি। ব্যাপারীরা হাট ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন এবং কিনছেন। অনেকে গরু কিনে ট্রাক ও নৌকায় করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার হাটে পাঠাতে শুরু করেছেন।

হাট কমিটির লোকজন বলেন, প্রতিবছর কোরবানির অন্তত ১৫ দিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা বেড়া-সাঁথিয়ার হাটগুলোতে ভিড় করেন। তাঁরা এখান থেকে গরু কিনে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। তবে এবার এখনো হাট জমেনি। কারণ, অনেক খামারি এখনো বড় হাটের অপেক্ষায় আছেন।

খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর যে গরুর দাম ১ লাখ টাকা ছিল, এবার সেই গরুই ১ লাখ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর কোরবানির সময় গরুর মাংসের দাম হিসাবে প্রতি মণ ছিল ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা। এবার সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ থেকে ৩৩ হাজার টাকায়।

বেড়ার দক্ষিণপাড়া মহল্লার খামারি আব্দুল আউয়াল বলেন, এবার খামারিরা গরু কম দামে ছাড়তে চাচ্ছেন না। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। তাই অনেকেই ব্যাপারীর কাছে বিক্রি না করে হাটে তোলার অপেক্ষায় আছেন। সাঁথিয়ার কাশিনাথপুর এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরেও বাড়ি বাড়ি যায়া সহজেই গরু কিনিছি। কিন্তু এবার খামারিরা বেশি দাম চায়। তাই গরু কিনতে কষ্ট হতেছে। এখন গরুর দাম অনেকটাই আউলা-ঝাউলা। সামনের হাটগুলোতে কত কী হয়, তা-ই দেখার বিষয়।’

প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সাঁথিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে ৬৭ হাজার ৯৪৬টি গবাদিপশু। গত বছর তা ছিল ৬৭ হাজার। অন্যদিকে বেড়ায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে ৯২ হাজার ১২০টি পশু। গত বছর ছিল ৯০ হাজার ২৬৬টি। সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার সাঁথিয়ায় ৯৪৬টি এবং বেড়ায় ১ হাজার ৮৫৪টি পশু বেশি আছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সাঁথিয়ায় ৩০ হাজার ৭৫১টি এবং বেড়ায় ৫২ হাজার ১০টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানায় প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

সাঁথিয়া উপজেলার করমজা পশুহাটের ইজারাদারের অংশীদার মোহসিন মল্লিক বলেন, ‘বলা যায়, আজ থেকে আমাদের এই হাটে পশু আমদানি শুরু হইছে। তবে এখনো হাট পুরোপুরি জমে ওঠে নাই। ঈদুল আজহার আগে সামনে আরও দুটি হাট আছে। সেই হাটে বেচাকেনা অনেক বাড়বে বলে আশা করতেছি।’

বেড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও সাঁথিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফারুক মিয়া (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, দুই উপজেলায় এবার গত বছরের তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত আছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর বিপুলসংখ্যক পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার কোরবানির হাটে যাবে।