
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের জাতীয় পার্টির টানা দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা এবার লাঙ্গল প্রতীক পেয়েও শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে জিয়াউল হক মৃধার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে তিনটি মিথ্যা মামলা করে আমাকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। নির্বাচনে আমাকে আমার দল জাতীয় পার্টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সশরীর উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি।’
জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে আমাকে ও আমার নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মহল থেকে ভয়ভীতি ও গ্রেপ্তারের হুমকি প্রদর্শন শুরু করে, যা অদ্যাবধি চলমান। ফলে আমি অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মতো সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছি না। এমন প্রতিকূল পরিবেশে আমি ও আমার দলের সব নেতা-কর্মীর সিদ্ধান্তক্রমে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি।’
জাতীয় পার্টির সরাইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি (জিয়াউল) বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি এলাকা থেকে বাইরে আছেন। তিনি বা জাতীয় পার্টি এখানে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি। এখানে অনেকেই এ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কাউকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জিয়াউল হক মৃধাসহ ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর আগে জামায়াতের প্রার্থী মোবারক হোসেন দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এখন এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি এস এন তরুণদের মধ্যে।