ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে কমব্যাট পিস্তলসহ বিএনপির এক নেতা ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।
বিএনপির ওই নেতার নাম আজিম উদ্দিন (৪৩)। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গফরগাঁও ইউনিয়নের বলাইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর সহযোগীর নাম চমন মণ্ডল (৩৫)। তিনি গফরগাঁও ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে পৌর শহরের রাঘাইচটি এলাকায় কামরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল, সেখানে মাদক সেবন ও বিক্রি হয়। ওই বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানে পাওয়া যায় একটি কমব্যাট পিস্তল। এ সময় পিস্তলের ১টি ম্যাগাজিন, ২টি কার্তুজ, ৩টি গুলি, ১৫টি ইয়াবা ও ৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ সময় সেখান থেকে আজিম উদ্দিন ও চমন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে গফরগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক সাইদুল করিম অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শনিবার থানায় মামলা করেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, এই আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে কীভাবে আনা হলো, কেন আনা হলো—এসব বিষয়ে আসামিরা কিছু বলছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা দুজনকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়েছি। আদালত রিমান্ড শুনানি না করে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।’
এদিকে বিএনপি নেতা আজিম উদ্দিনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে উপজেলা, পৌর ও পাগলা থানা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহমানবাধিকার–বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান আসলাম, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য কামরুল ইসলাম, পাগলা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নবী হোসেন, উপজেলা যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান জুয়েল, মোসাদ্দেক হোসেন, মো. সোহেল মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ–মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।