আবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন রুয়েটের একদল শিক্ষার্থী। আজ সোমবার বিকেলে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে
আবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন রুয়েটের একদল শিক্ষার্থী। আজ সোমবার বিকেলে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে

রুয়েটে ছাত্ররাজনীতির কার্যক্রম বন্ধে ফের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি, পাশেই ছাত্রদল–সমর্থিতদের অবস্থান

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দেয়াললিখন ও ব্যানার পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একদল শিক্ষার্থী। আজ সোমবার বেলা দুইটার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা।

একই সময়ে ছাত্রদল–সমর্থিত কিছু শিক্ষার্থী রুয়েটের প্রধান ফটকের কাছে অবস্থান নেন। তাঁরা বলছেন, এ ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চান না।

কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু স্লোগান দেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘ছাত্রদলের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না, ‘ছাত্রশিবিরের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘এনসিপির ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, পলিটিকস নো মোর’।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হচ্ছে ছাত্ররাজনীতি আনার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কার; ১০ আগস্ট ২০২৪ পাস হওয়া প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের ও সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল—এর সপক্ষে প্রশাসনের সঠিক জবাবদিহি; নির্বাচনকালীন কমিটি গঠন করে প্রশাসনকে ১৫ দিনের মধ্যে গণভোটের আয়োজন করতে হবে যে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা রাজনীতি চায় কি চায় না।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিদোয়ান সিদ্দিকী বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখানে কোনো ধরনের রাজনীতি চান না। প্রয়োজনে আবার গণভোট হতে পারে যে এই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি না। এ ব্যাপারে প্রশাসন যেন কমিটি করে সিদ্ধান্ত নেয়।

রুয়েটের প্রধান ফটকের কাছে অবস্থান নেন ছাত্রদল–সমর্থিত কিছু শিক্ষার্থী

প্রধান ফটকের সামনে থেকে ছাত্রদলের সমর্থক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। তবে গুপ্তভাবে অনেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তাঁরা এ ধরনের গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে দেয়াললিখন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফ মাসুদ বলেন, ‘৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে নানা রকম দাবি উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। তাঁরা গুপ্ত রাজনীতি করেছে। রুয়েটেও একইভাবে এই রাজনীতি হচ্ছে। আমরা এমন গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে।’

বিকেল চারটার পর রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, উপাচার্য বর্তমানে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। এই তিন দফা তিনি উপাচার্যের কাছে দেবেন। উপাচার্য এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে যান। সেখানে তাঁরা ‘নো পলিটিকস’সংবলিত ব্যানার টানিয়ে দেয়। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করেন।

এর আগে রবিউল ইসলাম সরকার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রুয়েটে ৫ আগস্টের পর কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন কমিটি দিতে পারেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রমের খবর আসছে। এটি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে গতকাল রাতেও প্রকাশ্য ও গুপ্ত রাজনীতির বিরোধিতা করে বিক্ষোভ মিছিল করেন একদল শিক্ষার্থী। মিছিলটি রাত দেড়টার দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা দলের পক্ষে স্লোগান দেন।

মিছিলে থাকা শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পাল্টাপাল্টি স্লোগানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে রাত দুইটার দিকে মিছিলটি সেখান থেকে সরে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রুয়েটে আগে থেকেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তাঁদের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে বিভিন্ন সংগঠনের আড়ালে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ আছে।