সাইবার সুরক্ষা আইনে করা একটি মামলায় রাঙামাটি থেকে সাদাপোশাকে তুলে নেওয়া সাংবাদিকসহ দুজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার তাঁদের ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হলেও জামিনের শুনানি হয়নি। পরে দুজনকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী।
আটক দুজন হলেন রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর।
সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর স্ত্রী তুষি বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বামীর বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আপডেট বা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো খবর পাচ্ছি না। চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। তবে ঢাকায় আইনিভাবে লড়ার জন্য আইনজীবীরা কাজ করছেন।’
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা আনুমানিক ২টার দিকে রাঙামাটি জেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে সাদাপোশাকে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তাঁদের তুলে নিয়ে যায়।
সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা ডিএমপির শাহবাগ থানায় আলী আকবরের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবি অভিযান চালায়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, আলী আকবরকে আটকের সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকেও তুলে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
মামলার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পুরো বিষয়টি ডিবি পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে তথ্যের জন্য ডিবির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, রাঙামাটি থেকে আটক দুজনের বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
আদালতের কার্যক্রম ও আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ তাঁদের ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় আনা হয়েছিল। তবে জামিনের শুনানি হয়নি। তাঁদের কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিন শুনানির জন্য আবেদন করেছি। আগামীকাল জামিন শুনানি হতে পারে।’
আইনজীবী ফজলে আজিম ও মো. মাঈন উদ্দিনও সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর পক্ষে আইনি লড়াই করছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী নজরুল ইসলাম।