সিলেট ১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে আব্দুল মোমেন সিলেট নগরের বন্দরবাজার। এলাকার দুর্গা কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি দেখাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সদের ভোটকেন্দ্রে আনা হয়। এই ভোটকেন্দ্রে ভোটার না হলেও এ কে আব্দুল মোমেন ভোটকেন্দ্রে আসার আসার আগে নার্সদের লাইনে দাড় করাচ্ছেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক। আজ সকাল ১০টার দিকে তোলা
সিলেট ১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে আব্দুল মোমেন সিলেট নগরের বন্দরবাজার। এলাকার দুর্গা কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি  দেখাতে  সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সদের ভোটকেন্দ্রে আনা হয়। এই ভোটকেন্দ্রে ভোটার না হলেও এ কে আব্দুল মোমেন ভোটকেন্দ্রে আসার আসার আগে নার্সদের লাইনে দাড় করাচ্ছেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক।  আজ সকাল ১০টার দিকে তোলা

সিলেট নগরের একটি কেন্দ্রে ভোটার নন, এমন ব্যক্তিরাও সারিতে

ভোটারদের সরব উপস্থিতি আর উৎসবমুখর পরিবেশ দেখাতে ভোটার নন, এমন ব্যক্তিদের এনে সিলেট নগরের একটি ভোটকেন্দ্রে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দেড় শতাধিক নারী ভোটকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে কয়েকটি সারিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যান। তাঁদের অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল। প্রথমে সবাই তাঁদের ভোটার ভেবেছিলেন। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, আসলে তাঁরা ভোটার নন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ওই নারীরা কেন্দ্রে অবস্থান করে চলে যান। তবে এসব নারীদের কাউকেই বুথের ভেতরে ঢুকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তত ১০ জন নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স। তবে তাঁরা কেউই এ কেন্দ্রের ভোটার নন। তবে একই সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা আরও দুজন নারী দাবি করেছেন, তাঁরা এ কেন্দ্রের ভোটার।

দুজন প্রত্যক্ষদর্শী ভোটার জানান, দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি সকাল ১০টার দিকে ওই কেন্দ্রে ভোট দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভোট দেওয়ার সময় যেন কেন্দ্রটিতে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখানো যায়, সে জন্য ভোটার নন, এমন ব্যক্তিদের এনে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে বলে কেন্দ্রের ভেতরে গুঞ্জন ছিল।

আরও পড়ুন

ভোট দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, বিএনপির হরতাল ‘ঢংঢাং’

ব্যালট ছিনিয়ে শিল্পমন্ত্রীর ছেলের জাল ভোট, কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বাতিল

নৌকার সমর্থকেরা বলছেন, ‘তোমাদের টেবিল নিয়ে বসার দরকার নাই, উঠে যাও’

যোগাযোগ করলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেসব নার্স হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করার কথা, তাঁরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। যাঁরা ছুটিতে আছেন, তাঁরা কী করছেন, সেটা তো জানা নেই। কারা ওই ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন, সেটা তাই জানা আমার পক্ষে অসম্ভব।’

এদিকে দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মৃন্ময় দাশ ওরফে ঝুটন প্রথম আলোকে জানান, এখানে মোট ভোটার ২ হাজার ৯৯৩ জন। সকাল ৯টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রের ৭টি বুথে ভোট পড়েছে ৪০টি। প্রতিটি বুথে নৌকার এজেন্ট থাকলেও অন্য প্রার্থীর কোনো এজেন্ট ছিল না।

ভোটার নন, এমন ব্যক্তিদের কেন্দ্রের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে মৃন্ময় দাশ বলেন, ‘কেন্দ্রের সামনে কারা দাঁড়িয়েছেন, তা জানি না। তবে ভোটার ছাড়া কাউকেই ভোট দিতে দেওয়ার সুযোগ নেই। এমন কোনো ব্যক্তি ভোট দিতে এলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’