
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইনিয়ে-বিনিয়ে নানা অপপ্রচার করেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দরখাস্ত করে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন বলে ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের বিষয়ে খন্দকার মোশাররফের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। আপনারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে আরেকটু জানেন। তিনি নানাভাবে ইনিয়ে–বিনিয়ে বহু অপপ্রচার করেন। এই যে আজ বলেছেন, আওয়ামী লীগ বাকশাল করেনি। এর চেয়ে হাস্যকর আর অবিশ্বাস্য কথা আর হতে পারে না। সব রাজনৈতিক দল বাতিল করে বাকশাল করা হয়েছিল, এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।’
আজ সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো একদলীয় শাসন কায়েম করেনি। ১৯৭৫ সালে যে দল গঠন করা হয়েছিল, সেটা এক দল নয়; সেটা ছিল জাতীয় দল। সব দলের সমন্বয়ে এটা ছিল জাতীয় দল। আবারও বিএনপিকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে তাদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাকশালের চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিক দরখাস্ত দিয়েছিল। যে দলে জিয়াউর রহমান দরখাস্ত করে যোগ দিয়েছিল, সেই দল নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার বিএনপির নেই।’
ভাষা দিবসেও তারা দলবাজি করেছে
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন জানিয়ে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সকাল সাড়ে সাতটায় বলাকা ভবন থেকে আমরা প্রভাতফেরি শুরু করি। সকাল আটটায় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে দাঁড়াই। সেখানে শহীদ মিনারে আসতে সময় লেগেছে পৌনে পাঁচ ঘণ্টা। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম এখানে বারবার উচ্চারিত হয়েছে। তারা বেদি ত্যাগ না করে বারবার ঘুরেফিরে নাম লিখিয়ে অযথা সময় নষ্ট করেছে। এখানেও তারা দলবাজি করেছে। মহান ভাষা দিবসে এভাবে দলবাজি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ, সরকার এখানে ব্যর্থ হয়েছে। অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের যাত্রায় বিলম্ব করেছে। এই পদক্ষেপ নিন্দনীয় ও এই দিনকে (শহীদ দিবস) কলুষিত করা ঠিক হয়নি।’
আওয়ামী লীগ দেশকে মেরামত করতে পারবে না
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একই। সেটা হলো গণতন্ত্র। যে দেশে গণতন্ত্র থাকে না, সেখানে মানবাধিকার থাকে না। আমরা মানবাধিকার চাই। আমাদের দেশের অর্থনীতি লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসপ্রায়। এ অবস্থার মধ্যে ভাষা দিবস পালন করছি। জনগণ এরই মধ্যে রায় দিয়েছে, আওয়াজ তুলেছে, যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, যারা বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করেছে, তারা দেশকে মেরামত করতে পারবে না। জনগণ তাদের কাছ থেকে মুক্তি চায়।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকের ভাষা দিবসে প্রত্যাশা, জনগণের দাবি পূরণে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। অবৈধ সংসদ বাতিল করতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।