সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক

চার মামলায় খায়রুল হকের জামিন মিলবে কি না, জানা যেতে পারে আগামী রোববার

রায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলাসহ পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন মিলবে কি না, তা আগামী রোববার জানা যেতে পারে। পৃথক চার মামলায় তাঁর জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর আজ বুধবার শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে গত বছরের ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। মামলাগুলোতে কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

পাঁচটির মধ্যে দুদকের করা মামলাটি ছাড়া অপর চার মামলায় খায়রুল হকের করা জামিন আবেদন শুনানির জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ১৯ থেকে ২২ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। বেলা দুইটায় শুনানির সময় নির্ধারিত ছিল। এ শুনানি থাকায় আদালতে প্রবেশ করতে গেলে দুইটার দিকে এই প্রতিবেদককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ, নাহিদ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান শুনানিতে অংশ নেন।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, চারটি আবেদনের ওপর শুনানি হয়েছে। রায়ের জন্য আগামী রোববার দিন রেখেছেন হাইকোর্ট।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে করা একটি মামলায়ও খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি শেষ হলো এবং দুদকের মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল হাইকোর্টের অপর বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান তাঁর আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।