যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। থেমস ভিউ কমিউনিটি সেন্টার, লন্ডন। ৭ মে
যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। থেমস ভিউ কমিউনিটি সেন্টার, লন্ডন। ৭ মে

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে, বাংলাদেশিদের নজরে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস-নিউহাম

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে ইংল্যান্ডজুড়ে ১৩৬টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কটল্যান্ডে স্কটিশ পার্লামেন্ট এবং ওয়েলসে ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সরেজমিনে নিউহাম, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম, রেডব্রিজ ও টাওয়ার হ্যামলেটসের ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রের সামনে বাংলাদেশের মতো কোনো লাইন না থাকলেও ভোটারের উপস্থিতি আছে। দিনের বেলা স্কুল ও অফিস–আদালত খোলা থাকায় ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে দিনের শেষ দিকে অফিস ছুটির পর ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে।

আজ স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বার্কিং, রেডব্রিজ ও নিউহামের ছয়টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বার্কিংয়ের থেমস ভিউ কমিউনিটি সেন্টারে প্রতি মিনিটে দুই থেকে তিনজন ভোটার কেন্দ্রে ঢুকছেন। সেখানে অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি বেশি। বার্কিং রিভারগেট সেন্টারে প্রতি পাঁচ থেকে সাত মিনিটে একজন ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেখা গেছে।

নিউহামের সিক্স অ্যাভিনিউ প্রাইমারি স্কুলেও একই চিত্র। তবে নিউহামে এলমার্হাস্ট প্রাইমারি স্কুলের ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বেশি। এখানে বেলা ২টায় প্রতি মিনিটে একজন ভোটারকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেখা গেছে।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারপত্র হাতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা। লন্ডন, যুক্তরাজ্য। ৭ মে

আজকের নির্বাচনে লন্ডনের ৩২টি বরোতেই (স্থানীয় কর্তৃপক্ষ) ভোট গ্রহণ হচ্ছে। এই নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৮১৭ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। একই সঙ্গে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামসহ লন্ডনের পাঁচ বরোতে মেয়র নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচন ঘিরে লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম, রেডব্রিজ এই চার বরোতে তিন শতাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আলোচনায় দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামের মেয়র নির্বাচন। এই দুই বরোতেই নির্বাহী মেয়র পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী লুৎফুর রহমান ও ফরহাদ হোসেনের বিজয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

টাওয়ার হ্যামলেটসে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বর্তমান নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এবং লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের মধ্যে। দুজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় নির্বাচনের ফল যা–ই হোক, বরোটির নেতৃত্ব বাংলাদেশি কমিউনিটির হাতেই থাকছে—এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান এবং টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেন্ডেন্টের জামি আলী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি ভোটকেন্দ্র। লন্ডন, যুক্তরাজ্য। ৭ মে

টাওয়ার হ্যামলেটসে ২০টি ওয়ার্ডে ৪৫টি কাউন্সিল আসনের বিপরীতে প্রায় তিন শতাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বরোটিতে ভোটার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। ৭৬টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১১০টি পোলিং স্টেশনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ চলছে।

অন্যদিকে নিউহাম কাউন্সিলেও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ১৯৬৫ সালে বরো প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাউন্সিলটি সব সময় লেবার পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এবার সেই দল থেকেই মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরহাদ হোসেন। তিনি জয়ী হলে যুক্তরাজ্যের কোনো মূলধারার বড় রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।

নিউহামে গ্রীন পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরিক চৌধুরী। বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপে লেবারের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিউহামে ফরহাদ হোসেনই এগিয়ে রয়েছেন।

নিউহামে ২৪টি ওয়ার্ডে ৬৬টি কাউন্সিল আসনের জন্য প্রায় ৩৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বরোটিতে ভোটার সংখ্যা আড়াই লাখের কাছাকাছি। রেডব্রিজ ও বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি প্রার্থী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন।

রেডব্রিজে ২২টি ওয়ার্ডে ৬৩টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৩০০ জন প্রার্থী এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে ১৯টি ওয়ার্ডে ৫১টি আসনের জন্য প্রায় দুই শতাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণ এখন আর কেবল প্রতীকী নয়; বরং তা বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ভোট এখন অনেক ওয়ার্ডে নির্ধারক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।