আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

গুলি মেহেদীর হাঁটুর একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ডান পায়ের হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ঢাকা কলেজে দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় সেই গুলিবিদ্ধ স্থান দেখান তিনি।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় অষ্টম সাক্ষী হিসেবে আজ জবানবন্দি দেন মেহেদী হাসান।

জবানবন্দিতে মেহেদী হাসান বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর তাঁরা প্রায় এক হাজার ছাত্র-জনতা রামপুরা বাজারের দিকে অবস্থান নেন। তখন রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনের ফুটওভার ব্রিজের নিচে পুলিশ ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যরা অবস্থান নেন। তাঁরা ৫ মিনিট পর পর মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি করতে থাকেন।

মেহেদী হাসান বলেন, সেদিন বিকেল ৫টার দিকে তিনি রামপুরা ডেল্টা হাসপাতালের সামনে অবস্থানের সময় বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে আহত হন। একটি গুলি তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। গুলির চিহ্ন এখনো বিদ্যমান। (সাক্ষী তাঁর হাঁটুতে গুলির চিহ্ন ট্রাইব্যুনালকে দেখান)।

হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার (সিআইডি) সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে উল্লেখ করে মেহেদী হাসান বলেন, কিন্তু তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সেখানেই পুলিশ পাহারায় রাখে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁকে হাসপাতালে রেখে পুলিশ চলে যায়। পরে তিনি সেখান থেকে বাসায় ফেরেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে তাঁর নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁকে সাপোর্ট নিয়ে হাঁটতে হয়।

মেহেদী হাসান জবানবন্দিতে আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে ডেইলি স্টারের একটি ভিডিও প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে বিজিবির রেদোয়ান, মেজর রাফাত, পুলিশের এডিসি রাশেদুল, রামপুরা থানার ওসি মশিউরের নেতৃত্বে ঘটনার দিন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণ করা। এতে তিনিসহ অনেকে হতাহত হন। সেই ভিডিও ফুটেজে আরও দেখতে পান যে রেদোয়ান তাঁদের ওপর গুলি করছেন। পুলিশ ও বিজিবির পোশাক পরিহিত সদস্যদেরও গুলি করতে দেখেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

এ মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তার দুজন হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।

এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে।