
দেশব্যাপী সবুজায়নের অংশ হিসেবে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় রোপিত চারা বাঁচিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতি তিন মাস পর এসব গাছের চারা কী অবস্থায় আছে, সে তথ্য সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভা শুরু হয় সকাল ১০টার দিকে। সভায় অংশ নেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা খানম।
সভার শুরুতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতির ওপর তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, গত ১৩ জুন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩ কোটি ৫৭ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এসব গাছের সম্পর্কে জানতে চান। তিনি এসব চারা বাঁচিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন। পাশাপাশি প্রতি তিন মাস পর রোপিত বৃক্ষের হালনাগাদ তথ্য দিতে নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।
প্রধানমন্ত্রী সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে আমরা মূলত বন নিয়ে আলোচনা করেছি, বিশেষ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি; যেহেতু এটা আমার একটা সিগনেচার প্রজেক্ট। স্বাভাবিকভাবেই আমি তো চাইব এটা এগিয়ে নিতে। সিগনেচার প্রজেক্ট আমার হতে পারে, কিন্তু এটার উপকার আমরা সকলেই পাব। আপনি যদি এতটুকু মনে করেন যে এটার উপকার আমরা সবাই পাব, সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আপনাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত। সকলেই এগিয়ে আসলে আমরা সকলের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারব।’
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরদের কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, সেটা ভেবে দেখার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলসহ উজাড় হয়ে যাওয়া বনভূমিকে বৃক্ষরোপণের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে চারার সরবরাহ ঠিক রাখতে আগামী বছর সারা দেশে ৫০৩টি নার্সারি করার পরিকল্পনা করছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। নির্বাচনী ইশতেহারে সবুজ কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এসব নার্সারি ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ বিষয়ে মানুষকে যত সচেতন করা যাবে, পরিবেশ রক্ষার কাজ তত সহজ হবে। আমি মনে করি, সব সময় অনুশাসন দিয়ে সবকিছু হয় না। আমাদের দেশে নরমালি যেটা হয়, সবাই এক্সপেক্ট করে যে সরকার সবকিছু করবে। আমি ময়লা করব, সরকার পরিষ্কার করবে। বাট আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি কম ময়লা করতে, সে ক্ষেত্রে সরকার বা যারা দায়িত্বশীল, তাদের জন্য পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সহজ হবে।’
বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা হলে তিনি গাছের চারা রোপণের জন্য তাদের উৎসাহিত করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাচ্চাদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। আমি নিজেও যখন বাচ্চাদের সাথে দেখা হয়, আমি বলি যে তোমার বার্থডেতে তুমি একটা গাছ রোপণ করবে। তোমার ভাইয়ের বার্থডেতে করবে, বাবা-মার, নানা-নানির বার্থডেতে গাছ রোপণ করবে। তো বিষয়টা হচ্ছে এনকারেজ করা। আপনি ১০০ জনকে করবেন, হয়তো ১০০ জন করবে না। ৫০ জন যদি করে, ২৫ জন যদি করে, সেটাও কিন্তু অনেক।’
প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের নিজেদের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশটা আমাদের সবার।’ সে জন্য শুধু ৯টা-৫টা নয়, তার বাইরেও কিছু করার চেষ্টা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, চেষ্টা করলে নিশ্চয়ই একটা ভালো কিছু হবে।
সভায় মা গাছ সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া, সুন্দরবনের সুরক্ষা ও আওতা বাড়ানো, প্রণোদনামূলক ছাদবাগান সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।