নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। এর মধ্যেই ছাতা মাথায় সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি
নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। এর মধ্যেই ছাতা মাথায় সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি

দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ, এর প্রভাব কতটুকু পড়তে পারে

বৃষ্টি ঝরানো মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। আজ শনিবার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টেকনাফ এলাকা দিয়েই এ বায়ু এসেছে। এবার স্বাভাবিক সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ পর এর প্রবেশ ঘটল। তবে এ বায়ু আসা মানেই দেশজুড়ে বৃষ্টি হবে, এমন নয়। নতুন এই বায়ুকে লড়তে হবে এখন সক্রিয় পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে। তাতে করে বরং কয়েক দিন বৃষ্টি কমে যেতে পারে। এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা কিন্তু ওই পশ্চিমা লঘুচাপের কারণেই।

দেশজুড়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হতে সপ্তাহখানেকের অপেক্ষা করতে হবে। তবে চলতি বছর এই বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে, আগেই সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস এবং বিশ্বের বিভিন্ন আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, আজই দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দিয়ে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে। এটি চট্টগ্রাম পর্যন্ত ইতিমধ্যে বিস্তৃত হয়েছে।

দেশে মোট বৃষ্টির বেশির ভাগটাই হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। এ বৃষ্টি ঘটায় মৌসুমি বায়ু।

সাধারণত ৩১ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকা দিয়ে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। এবার তা অনেকটাই দেরিতে এল। অথচ গত বছর ২৫ মের মধ্যেই চলে এসেছিল। গতবার একটু বেশি আগে চলে এসেছিল। এবার দেরিতে আসার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির সময় কমে এল।

দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে, এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হয় জুন মাসে। তবে এ বছর বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে শুধু নয়, পুরো মৌসুমেই বৃষ্টি কম হতে পারে। এর একটি কারণ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুপ্রবাহ এল নিনোর সক্রিয়তা। এ বছর এর ফলে বৃষ্টি কম হতে পারে বলে জলবায়ুর একাধিক মডেলে ধারণা করা হয়েছে।

মৌসুমি বায়ু তো এল, তাহলে দেশজুড়ে বৃষ্টি কবে থেকে হতে পারে, জবাবে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, এখন এমন একটা সময় যখন পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় আছে। এর বিপরীতে পুবালি বাতাস চলে এল। এখন এই দুয়ের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তাতে বৃষ্টি কয়েক দিন কম হতে পারে। বিশেষ করে ৯ থেকে ১০ জুন বৃষ্টি কম হতে পারে। সারা দেশে এ বায়ু ছড়িয়ে পড়তে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

পশ্চিমা লঘুচাপ আর পুবালি বাতাসের সঙ্গে একটি পার্থক্য আছে। পশ্চিমা লঘুচাপের ফলে বৃষ্টি হলেও এতে প্রকৃতিতে দীর্ঘক্ষণ শীতলতা থাকে না। কিন্তু পুবালি বাতাসে ঠান্ডা বায়ু বয়ে যায়, বৃষ্টির পরপরই।

টানা কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের পর গতকাল শুক্রবার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে গতকাল থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তবে আজ আবার গতকালের চেয়ে তাপমাত্রা বেড়েছে কিছু এলাকায়।