বিশ্বের ১২৫টি নগরীর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল ঢাকা। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বে দ্বিতীয়। তবে আজ ও কালের মধ্যে পার্থক্য আছে। গতকাল ছিল কর্মদিবস। রাস্তায় যানবাহন ছিল বিস্তর। কলকারখানাও খোলা ছিল। কিন্তু আজ স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন অনেক কম। কলকারাখানাও বেশির ভাগ বন্ধ।
রাজধানীতে এই দুই উৎস থেকে দূষণ হয় বেশি। কিন্তু আজ দূষণ কমেনি। আজ আইকিউ এয়ারের মানসূচকে ঢাকার বায়ুর মান ২৩৬। বায়ুর এই মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আজ বিশ্বে বায়ুদূষণে প্রথম স্থানে আছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা।
গতকাল বুধবার সকালেও এ সময়ে বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল ঢাকা।
বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। সেই সতর্কবার্তায় নগরবাসীর উদ্দেশে আইকিউ এয়ারের পরামর্শ, বাইরে বের হলে সুস্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।
দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মধ্যে চট্টগ্রামের বায়ুর মান ৯৪, রাজশাহীতে ১৬৯ আর খুলনায় ১৬২। ঢাকা ও আশপাশের সর্বোচ্চ দূষিত তিন এলাকার মধ্যে আছে ইস্টার্ন হাউজিং-২ (২৯০), সাভারের হেমায়েতপুর (২৭৪) ও গুলশান লেক পার্কে (২৬৭)।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩২ গুণ বেশি।
বায়ুদূষণের যে অবস্থা, তা থেকে রক্ষা পেতে আইকিউ এয়ারের পরামর্শ, ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। খোলা স্থানে ব্যায়াম করা যাবে না। আরও একটি পরামর্শ, ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হবে।
গত ডিসেম্বরের একটি দিনও নির্মল বায়ু পায়নি রাজধানীবাসী। দূষণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাপসের এক জরিপে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে যত বায়ুদূষণ ছিল, তা গত ৯ বছরে সর্বোচ্চ।
ক্যাপসের গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে বায়ুর গড় মান ছিল ২৮৮। ২০১৬ সাল থেকে এত খারাপ কখনোই হয়নি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বায়ুর মান ছিল ১৯৫। গত ৯ বছরে ডিসেম্বরে ঢাকায় বায়ুর মান ছিল ২১৯ দশমিক ৫৪। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই মান ৩১ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। আর ২০২৩ সালের তুলনায় বেড়েছে ২৬ শতাংশের বেশি।