সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস আজ রোববার। এদিন সকালে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বায়ুদূষণে বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে প্রথম দিকে থাকছে ঢাকা। আজও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
আজ সকাল ৯টার দিকে বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান প্রথম। অর্থাৎ এই সময়ে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। দূষিত বায়ুর মানগত দিক থেকে ঢাকার স্কোর ২৯৭। এই মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। তবে এই সময়ে ঢাকার ৬টি স্থানের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি খুবই খারাপ (দুর্যোগপূর্ণ)।
বায়ুদূষণের এই পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয়, সতর্ক করে। আজ ঢাকার বায়ুদূষণের যে অবস্থা, তা থেকে রক্ষা পেতে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছে আইকিউ এয়ার।
বায়ুদূষণে আজ দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। এই নগরীর স্কোর ২০৮।
ঢাকার বায়ুদূষণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং তা দিন দিন বাড়ছে। গত ডিসেম্বর পুরোটাই, আর জানুয়ারির প্রায় প্রতিদিন বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর নগরীগুলোর মধ্যে থাকছে ঢাকা।
বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০-এর বেশি হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য হয়।
দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে; বরং কিছু ক্ষেত্রে আজকাল ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম আছে, তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে এসব কার্যক্রমের তেমন কোনো ফলাফল নেই।
আজ সকালে ঢাকার ৬টি স্থানের বায়ুর মান খুব খারাপ। স্থানগুলো হলো নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড (৪৭৯), ধানমন্ডি (৪৩৭), মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং (৪২৭), পল্লবী (৩৮৪), সাগুফতা (৩৩৮) ও বেচারাম দেউড়ী (৩১২)। বায়ুর এই মান ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত। এটি বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ স্তর।
দেশে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখনো নানা উদ্যোগ-কথাবার্তা শোনা যায়। কিন্তু বায়ুদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন খারাপই হচ্ছে।
আইকিউ এয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।