
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। রোববার সকালে তিনি শুরুতে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রথম আলোকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনো দলের পক্ষে অবস্থান নেবে না—ওয়াশিংটনের এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রদূত। নির্বাচনে যারাই বিজয়ী হবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে—এ বিষয়টি তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রসচিবের কাছে উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় তাঁর মিশন শুরু করেন। রোববার তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখা করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে।
জানা গেছে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ের মধ্যে বাণিজ্য, ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য প্রসঙ্গ এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে আলোচনায় সুস্পস্টভাবে তুলে ধরেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিবেশ নিয়ে তৌহিদ হেসেন ও আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে সম্ভাব্য সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি এ নিয়ে তাঁর ভাবনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই প্রধান নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরেছেন।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের সময় কেমন নিরাপত্তাব্যবস্থা বলবৎ থাকবে, সে সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পেয়েছি। এ জন্য স্বরাষ্ট উপদেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’