
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সাইপ্রাস মিশনে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু প্রথম আলোকে জানান, নতুন দায়িত্ব নিতে সাইপ্রাসে যাওয়ার আগে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, সাক্ষাতে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা, পেশাদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ও গৌরব সম্মুন্নত রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ৯ এপ্রিল মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি দেশের অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পেলেন।
নতুন দায়িত্ব নিতে আগামী শুক্রবার মিনহাজুল আলম নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বর্তমানে জাতিসংঘের ১০টি শান্তি রক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ জন সামরিক কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন, যার মধ্যে একজন বাংলাদেশি। বর্তমানে পশ্চিম সাহারার ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্বে আছেন মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে যোগ দিলে ফোর্স কমান্ডার পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা হবে দুই।
বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান। পরের বছর একই দেশে এ দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সালাম। এ ছাড়া মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর সুদানে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু তায়েব মুহাম্মদ জহিরুল আলম লাইবেরিয়ায়, মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ আইভরি কোস্ট ও পশ্চিম সাহারায় এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাইপ্রাসে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা বাহিনী জাতিসংঘের দীর্ঘতম সময় ধরে পরিচালিত শান্তি রক্ষা মিশনগুলোর একটি। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এ মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিসংঘের বাফার জোন (যা ‘গ্রিন লাইন’ নামে পরিচিত) বজায় রাখা এবং কার্যত বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি রেখাগুলোর তত্ত্বাবধান করা।
এ মিশনের জন্য ১ হাজার ৯০ সদস্য অনুমোদিত আছেন। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মিশনের জনবল ছিল ৭২৭ সামরিক সদস্য, ৬০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৪৮ বেসামরিক কর্মী।
জাতিসংঘের এ মিশনে ১৮টি দেশের সামরিক সদস্যরা রয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, ইকুয়েডর, ঘানা, হাঙ্গেরি, ভারত, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, রাশিয়ান ফেডারেশন, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও যুক্তরাজ্য।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলমের জন্ম ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন এবং অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ পুরস্কার পান।
চাকরিজীবনে মিনহাজুল আলম ‘অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন’-এর নেতৃত্ব দেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তাসম্পর্কিত একটি ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেন তিনি। কক্সবাজার এলাকার দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের চিফ ইনস্ট্রাক্টর ও কমান্ডেন্ট এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি।
চাকরিজীবনে সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ বাহিনীর সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করেছেন মিনহাজুল আলম। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।