কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক সুমাইয়া সমাজী
কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক সুমাইয়া সমাজী

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া সমাজী

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড' পেয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া সমাজী। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের (কেইউ) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফেডারেশন (এনএসএফ) তরুণ গবেষকদের ‘ক্যারিয়ার’ অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে। এটা তরুণদের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ পুরস্কারগুলোর অন্যতম। এই পুরস্কার পাওয়ায় সুমাইয়া সমাজী আগামী পাঁচ বছরে গবেষণার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ডলার পাবেন।

সুমাইয়া সমাজীর বাবা এহসানুল হক সমাজী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী কর্মজীবনে ইউএনডিপি-বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (সিআরপিসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রসিকিউটোরিয়াল উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সুমাইয়া সমাজীর গবেষণার বিষয় ‘সরবরাহব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) নিরাপত্তা’। বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার চিপ, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো নানা হাত ঘুরে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। এই সরবরাহব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় পণ্যগুলোর উৎস এবং সেগুলো আসল কি না, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। নকল পণ্য শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই তৈরি করে না, জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

সুমাইয়ার গবেষণার লক্ষ্য হলো, এমন একটি নিরাপদ ও উন্নত ডিজিটাল–ব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে সহজেই পণ্য ও ব্যক্তির আসল পরিচয় যাচাই করা যাবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। ফলে বড় সরবরাহব্যবস্থা এবং উচ্চ নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়, এমন জায়গাগুলোতে মানুষের আস্থা বাড়বে।

সুমাইয়া সমাজীর সঙ্গে এবার কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই সহকারী অধ্যাপক ‘ক্যারিয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আনা মোরাইস সহজে রিসাইকেল (পুনরায় ব্যবহারযোগ্য) করা যায় না এমন প্লাস্টিক (পলিপ্রোপাইলিন) নিয়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের জিজুন ইয়াও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গবেষণা করছেন।

বর্তমানে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ জন সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে ১১ জনই বিভিন্ন সময় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।