বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ। যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে ইউনেস্কো ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর  কামাল আহমেদ। যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে ইউনেস্কো ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে, দায়ী মালিকদের হস্তক্ষেপ: কামাল আহমেদ

গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে এসে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ। তাঁর মতে, এর জন্য অন্যতম দায়ী গণমাধ্যমের মালিকদের হস্তক্ষেপ। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের দিক থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চাপ আমরা অনুভব করছি না…কিন্তু মালিকদের দিক থেকে সেটা আমরা দেখি।’

আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন কামাল আহমেদ। যৌথভাবে সভার আয়োজক ইউনেস্কো ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

কামাল আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে, কারণ গণমাধ্যম যথেষ্ট স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। এই স্বাধীনতার ওপরে আঘাত এসেছে দুটো দিক থেকে। একটি হলো বিগত স্বৈরশাসনের নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ীভিতি। অন্যটি হলো অর্থনৈতিক কারণ। মালিকদের প্রভাব ও করপোরেট স্বার্থ।

কামাল আহমেদ মনে করেন, কিছু কিছু গণমাধ্যমের মালিকের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে সম্পাদকেরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী যখন অর্থ পাচার বা ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করেন, তখন কিছু কিছু গণমাধ্যম সেই তালিকা হুবহু ছাপায় না। অথবা নিজেদের মালিকের নাম বাদ দিয়ে বাকিদের নাম প্রকাশ করে। এমন যখন ঘটে, তখন বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?

গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হওয়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপতথ্য, ভুয়া তথ্যকেও দায়ী করেন কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, এগুলোর বেশির ভাগই রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীস্বার্থে কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে খাটো করার জন্য, বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য প্রচার করা হয়। এগুলো দেখার পরে সাধারণ পাঠক যখন একই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে দেখেন, তখন তাদের জন্য সেটি বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের সংকট আরও গুরুতর রূপ নেবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সংকট উত্তরণে গণমাধ্যমের ‘টেকসই অর্থনৈতিক মডেল’ দরকার বলে মনে করেন কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, সরকার বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তার ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়লে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে ‘কমপ্রোমাইজ’ হবে। সে জন্যই আর্থিক স্বাধীনতার পথ বের করতে হবে। ‘পজিশন’ ধরে রাখতে যে সম্পাদকেরা মালিকদের সঙ্গে আপস করছেন তাঁদেরকেও দায়িত্বশীল হয়ে পেশার পক্ষে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

আলোচনায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ। এতে আরও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, যমুনা টিভির সিইও ফাহিম আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নি প্রমুখ। আলোচনা সঞ্চালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।