
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ার গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। চলছে বিশাল প্যান্ডেল আর মঞ্চ নির্মাণের কাজ।
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিন বাহিনী প্রধান, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা।
শনিবার সকাল ৮টায় প্যারেড গ্রাউন্ডে দেখা যায়, মহড়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনা, নৌ, বিমান, কোস্টগার্ড, পুলিশ, বিজিবি, জেল পুলিশসহ বিএনসিসি সদস্যরা। বারবার অনুশীলন করে ঝালিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের। সকাল ৯টার পরপর প্যারেড গ্রাউন্ডে আসেন কুচকাওয়াজের অধিনায়ক, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত হবে এই কুচকাওয়াজ।
ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সাড়ে ৯টায় শুরু হয় মহড়া। প্যারেড গ্রাউন্ডের দক্ষিণ দিক থেকে ঘোড়া দাপিয়ে প্যারেড গ্রাউন্ডের মঞ্চের সামনে আসেন কুচকাওয়াজের অধিনায়ক মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। এরপরই একে একে ডামি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে মঞ্চে আসে সুশৃঙ্খল মিলিটারি পুলিশের দল।
সশস্ত্র সালামসহ কুচকাওয়াজের অনুমতির পর্বের পর ডামি রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন অধিনায়ক।
এরপর শুরু হয় কুচকাওয়াজ। একে একে রাষ্ট্রপতিকে সালাম দিয়ে মঞ্চ অতিক্রম করে কন্টিনজেন্টগুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুচকাওয়াজের একদম শুরুতেই থাকবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। দুটি খোলা ট্রাকে চড়ে তাঁরা অংশ নেবেন। কুচকাওয়াজে অংশ নেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট-প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাঁজোয়া কন্টিনজেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট, কন্টিনজেন্ট, আর্টিলারি কন্টিনজেন্ট, এয়ার ডিফেন্স কন্টিনজেন্ট, ইঞ্জিনিয়ার্স কন্টিনজেন্ট, সিগন্যালস কন্টিনজেন্ট, সার্ভিসেস কন্টিনজেন্ট, প্যারা কমান্ডো কন্টিনজেন্ট, মডার্নাইজড ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট। থাকবে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে জাতীয় পতাকাবাহী কন্টিনজেন্ট। বাংলাদেশ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কন্টিনজেন্ট ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ পুলিশ কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ জেল কন্টিনজেন্ট, সম্মিলিত নারী কন্টিনজেন্ট, ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী দল এবং প্যারাট্রুপার কন্টিনজেন্ট।
শনিবারের মহড়াও অংশ না নিলেও মূল কুচকাওয়াজে পদাতিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে যান্ত্রিক বহরও। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বাহিনীর নানা সরঞ্জামও যান্ত্রিক বহরে যুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে প্যারেড গ্রাউন্ডের পূর্ব পাশে বাঁশের বড় কাঠামো লাগানো হয়েছে। যেগুলো বিভিন্নভাবে সাজানো হবে। পশ্চিম দিকে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর করা হচ্ছে বিশাল প্যান্ডেল। যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বসবেন। সাউন্ড সিস্টেম, আলোকসজ্জা কাজও এগিয়ে নিচ্ছে আয়োজকেরা।