দলীয় নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে বিশ্ব নৃত্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দু দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার। বুধবার জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে
দলীয় নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে বিশ্ব নৃত্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দু দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার। বুধবার জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে

পর্দা নামল বর্ণাঢ্য নৃত্য উৎসবের

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো বিশ্ব নৃত্য দিবসের নৃত্যানুষ্ঠান। ২৯ এপ্রিল বুধবার ছিল বিশ্ব নৃত্য দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘ঐক্য, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তি’। একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে মঙ্গলবার জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে শুরু হয়েছিল দুই দিনের এই নৃত্যানুষ্ঠান। এতে দেশের প্রায় এক শ নাট্যদলের ছয় শতাধিক নৃত্যশিল্পী অংশ নেন।

বুধবার সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল বিকেল পাঁচটায়। সমাপনী দিনে নাট্যশালা মঞ্চে ২৩টি নৃত্য সংগঠনের তিন শতাধিক শিল্পী নৃত্য পরিবেশন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব কানিজ মওলা বলেন, সরকারি আয়োজনগুলোয় যদি সবাই একসঙ্গে অংশগ্রহণ না করেন, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমিত থাকে। এ জন্য সব সরকারি কর্মসূচিতে সবার অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য জনসাধারণের মধ্যে একটি জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি শিশুদের উন্নত মানসিক গঠনের জন্য তাদের সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, সংস্কৃতি চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আগামী দিনে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমির কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

আলোচনা পর্বের পরে সমাপনী দিনের নৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের সমবেত নৃত্য দিয়ে। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন রূহী আফসানা। পরে সাজু আহমেদের পরিচালনায় কথক নৃত্য সম্প্রদায়, সামিনা হোসেনের পরিচালনায় নৃত্যদল ভাবনা, অনীক বসুর পরিচালনায় বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, সালমা বেগম মুন্নির পরিচালনায় নৃত্যাক্ষের শিল্পীরা দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন।

এ ছাড়ও সমাপনী দিনে নৃত্যায়ন, অংশী, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস, স্বপ্নচূড়া কালচারাল একাডেমি, নৃত্যসুর, আরাধনা নৃত্যদল, সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন, আট্রিস্ট্রি, পরম্পরা, তপস্যা, আঙ্গিকাম, নন্দন কলাকেন্দ্র, নৃত্যগ্রাম, নাচঘর, স্বভূমি সাংস্কৃতিক একাডেমি, নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র, কায়াশ্রমসহ বিভিন্ন নৃত্য সংগঠনের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন।

মোফসসল আলিফের পরিচালনায় অ্যালিফিয়া ডান্স এটেলিয়ারের শিল্পীদের যন্ত্রানুষঙ্গে সমবেত নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনের এই বর্ণাঢ্য নৃত্যানুষ্ঠানের পর্দা নামে।