বিবৃতি
বিবৃতি

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগে উদ্বেগ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের দুই যুগ্ম সমন্বয়ক মানবাধিকারকর্মী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে গত সোমবার পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি ওই দিন সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় পরিচালনা, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ও রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অন্যতম।

আজ দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা, মতামত ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। এই পদত্যাগের ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিদ্যমান অনিশ্চয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ওই যুগ্ম সমন্বয়কেরা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন অতিক্রম করলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে দেশবাসীকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলেনর যুগ্ম সমন্বয়কেরা আরও বলেন, মন্ত্রীর পদত্যাগবিষয়ক ঘটনাবলি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে নিয়ে দেশবাসীর মনে সন্দেহ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। সেই লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন করা খুবই জরুরি এবং একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয়করণ করাটাও অত্যাবশ্যক।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে’ পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি করা হয় বিবৃতিতে।

যুগ্ম সমন্বয়কদ্বয় বলেন, সরকারকে অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমাবদ্ধ একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে চুক্তির অন্যতম পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ শুরু করতে হবে।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্ন কেবল একটি আঞ্চলিক বা প্রশাসনিক বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বহুজাতিক বাস্তবতা তথা বিএনপি ঘোষিত রেইনবো নেশন বিনির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় রাজনৈতিক প্রশ্ন। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সর্বদলীয় জাতীয় সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিবৃতিদাতারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার তাঁদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতি দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করবে।