
এক সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পদাবনতি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ-ইনস্টিটিউটে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য অভিন্ন ন্যূনতম সিজিপিএ (২.০০) নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৯৯ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক নিয়মিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। সহ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ, এ এস এম মাকসুদ কামালসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা এতে উপস্থিত ছিলেন৷
সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী অভিযাগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পদাবনতি করে সহযোগী অধ্যাপক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি ও ট্রাইব্যুনালের সুপারিশে সিন্ডিকেট ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদাবনতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৯৯ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদ শাস্তি দেওয়া হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে পরীক্ষাসহ ৪ বছর, ৫৩ জনকে পরীক্ষাসহ ৩ বছর এবং ৩৯ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষাসহ ২ বছর মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আর ২ জন শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্ট কোর্সের মিডটার্ম বা ইনকোর্স পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। শৃঙ্খলা পরিষদের সভার সুপারিশ অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদাবনতির শাস্তি পাওয়া শিক্ষক মেজবাহ্-উল-ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ এক সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের কাছে ওই ঘটনার বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ-ইনস্টিটিউটগুলোতে একেক বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য একেক রকম সিজিপিএর শর্ত রয়েছে। সিন্ডিকেট এবার এ ক্ষেত্রে সব বিভাগে অভিন্ন সিজিপিএ ২.০০ নির্ধারণ করে দিয়েছে। একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য জানান, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ-ইনস্টিটিউটে ন্যূনতম ২.০০ সিজিপিএ পেলে পরবর্তী বর্ষে ওঠার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ জন গবেষককে পিএইচডি এবং ১৪ জন গবেষককে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে।