ডিসমিসল্যাবের বিশ্লেষণ

২০২৫ সালে ছড়ানো মিথ্যা ও অপতথ্যের ৫৮% রাজনৈতিক

অপতথ্য ছড়ানোর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে।

২০২৫ সালজুড়ে অনলাইন মাধ্যমে চার হাজারের বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৯১টিই রাজনৈতিক। অর্থাৎ, গত বছর ছড়ানো অপতথ্যের প্রায় ৫৮ শতাংশ রাজনৈতিক। এরপরের অবস্থানেই আছে আইনশৃঙ্খলা এবং ধর্মীয় অপতথ্য।

সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে ভিডিওর মাধ্যমে। যেগুলোর বেশির ভাগই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দেশে কাজ করা ৯টি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের গত বছরের ৫ হাজারের বেশি যাচাই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছে আরেক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব।

অপতথ্য যাচাইয়ের সংখ্যা হিসেবে ডিসমিসল্যাব ২০২৫ সালকে ভুল তথ্যের বছর বলে উল্লেখ করেছে। তাদের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করা নয়টি যাচাই প্রতিষ্ঠান মিলে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ৩০ শতাংশ বেশি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। আর বছরের শেষ দিকে বেড়েছে গণমাধ্যমের ফটোকার্ড নকল করে নেতা-কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে ভুয়া উদ্ধৃতি ছড়ানোর প্রবণতা।

কোন বিষয়ক কত ভুল তথ্য

বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘোষণার পর মাত্র এক মাসে নির্বাচন নিয়ে অন্তত ৫৫টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়, যার বেশির ভাগই ছিল বিভিন্ন জোট ও ভুয়া জরিপের ফলাফল নিয়ে।

অপতথ্যের শিরোনামে শীর্ষে রয়েছে, এমন ১০ জনের তালিকা করেছে ডিসমিসল্যাব। ওই ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ডিসমিসল্যাবের ওই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৭৪টি ফ্যাক্টচেক শিরোনামে তাঁর নাম ছিল। অপতথ্যের শিরোনামে থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ডিসমিসল্যাব তাঁকে ১৫০টি ফ্যাক্টচেক শিরোনামে পেয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়েও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে ডিসিমিসল্যাবের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

অপতথ্যের শিরোনামে আরও রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে ফেসবুকে।