পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি দেন মুসল্লিরা। তবে শর্ত হলো, কোরবানির পশুকে অবশ্যই সুস্থ–সবল হতে হবে। অসুস্থ পশুর কোরবানি হয় না। তাই কোরবানির জন্য পশু কেনার আগে সেটি সুস্থ কি না, তা দেখে নিতে হয়। এটা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন অনেকেই। অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেকে বুঝতে পারেন না।
এ বিষয়ে পশুর হাটের ব্যবসায়ীদের পরামর্শ, সাধারণত কোনো পশু অসুস্থ থাকলে সেটি শুয়ে থাকে বা দাঁড়াতে চায় না। তাই কোরবানির পশু কেনার আগে এটা খেয়াল রাখা দরকার।
রাজধানীর গাবতলীর পশুর হাটে গত শনিবার কথা হয় তিনজন পশু ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তাঁরা হলেন হেলাল প্রামাণিক, রফিক মোল্লা ও রিপন প্রামাণিক। তিনজনেরই বাড়ি কুষ্টিয়ায়। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু বিক্রি করতে ঢাকায় এসেছেন তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় যুক্ত তিনজনই।
হেলাল প্রামাণিকের বয়স ৫৩ বছর। কুষ্টিয়ার মিরপুরের বাসিন্দা তিনি। ৩৫ বছর ধরে পশু ব্যবসায় যুক্ত। গাবতলীর হাটে এবার তিনি ১৮টি গরু বিক্রির জন্য এনেছেন।
হেলাল প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত দুই বছর কয়েক মাস বয়স হলে কোনো গরু কোরবানির যোগ্য হয়ে যায়। তখন গরুর দুটি দাঁত গজায়। দুই দাঁত থাকলে বোঝা যাবে, সেটি কোরবানির যোগ্য হয়েছে।
হেলাল প্রামাণিক বলেন, কিছু মানুষ ওজন আন্দাজ করে কোরবানির পশু কেনেন। প্রতিবছর কোরবানি দেওয়ার কারণে তাঁরা বুঝতে পারেন যে কোন গরুর কত ওজন হতে পারে। খামারি কিংবা বেপারীও জানেন যে তাঁর গরুর ওজন কতটুকু হতে পারে। ওজন অনুযায়ী একটা দাম ধরা হয়। এই ব্যবসায়ী জানান, বহু মানুষ এমনও আছেন যাঁরা নিখুঁত পশু কেনেন। টাকা দেখেন না, ওজন দেখেন না। হৃষ্টপুষ্ট পশু কেনায় আগ্রহ থাকে তাঁদের।
রফিক মোল্লা ২০ বছর ধরে পশু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অসুস্থ থাকলে সেই গরু কোরবানি দেওয়া উচিত নয়। যদিও অসুস্থ পশু সাধারণত কোরবানির হাটে আনা হয় না। তারপরও অনেক সময় হাটে আনার পর অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। অসুস্থ হলে সেই পশু শুয়ে থাকবে, উঠতে চাইবে না। অঝরে লালা ঝরবে। এসব দিকে খেয়াল রাখেন ক্রেতারা।
এই পশু ব্যবসায়ী আরও বলেন, গাড়িতে আনা–নেওয়ার সময় পশুর শরীরে একটু-আধটু কেটে যেতে পারে। চামড়া ছুলে যেতে পারে। এতে কোরবানি দিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে পশুটি প্রতিবন্ধী হলে কিংবা বড় কোনো কাটার দাগ থাকলে সেটা দিয়ে কোরবানি হয় না। এ ধরনের পশু কোরবানির জন্য কেনা উচিতও নয়।
কোরবানির পশু হতে হবে সুন্দর, পরিষ্কার আর নিখুঁত, বলছিলেন রফিক মোল্লা। তিনি বলেন, যিনি কোরবানি দেবেন, তিনি পছন্দের পশু উৎসর্গ করবেন। সে কারণে কোরবানিদাতা এমন পশু কিনবেন, যেটি তাঁর পছন্দ। সেটি আকারে ছোট হতে পারে, কম দামের হতে পারে। কিন্তু অসুস্থ হওয়া চলবে না।
রিপন প্রামাণিক ২৫ বছর ধরে পশু ব্যবসায় যুক্ত। তিনি বললেন, সুস্থ–সবল হলেই কোনো পশু কোরবানি দেওয়া যায়। বড় দাগ, জন্মগত ত্রুটি কিংবা অসুস্থ না হলেই হলো। সচেতনভাবে দেখলে পশুর এসব ত্রুটি বোঝা যায়।