ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এক শিক্ষার্থীকে আর্চারির কৌশল দেখাচ্ছেন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজক জহিন ফেরদৌস। গত শনিবার প্রথমবারের মতো এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এক শিক্ষার্থীকে আর্চারির কৌশল দেখাচ্ছেন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজক জহিন ফেরদৌস। গত শনিবার প্রথমবারের মতো এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শুরু হলো বিনা মূল্যের আর্চারি প্রশিক্ষণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আর্চারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে উন্মুক্ত এই কার্যক্রম গত শনিবার সকাল নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে শুরু হয়।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের আয়োজক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী জহিন ফেরদৌস (জামি)। তিনি সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন। প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) জাতীয় পদক বিজয়ী ও অভিজ্ঞ আর্চারি কোচ মোহাম্মদ আশরাফ।

প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল নয়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সুইমিংপুলসংলগ্ন অংশে এই প্রশিক্ষণ চলবে।

আয়োজক জহিন ফেরদৌস জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলাভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রচারণার অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছন্দ অংশগ্রহণের জন্য ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা সময়সূচি রাখা হয়েছে। মেয়েদের প্রশিক্ষণের সময় সকাল ৯টা থেকে ১০টা এবং ছেলেদের সকাল ১০টা থেকে ১১টা।

এই আয়োজন নিয়ে জহিন ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, আর্চারি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, ধৈর্য ও মানসিক স্থিরতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি পড়াশোনার চাপ সামলাতেও সহায়ক। একই সঙ্গে এটি শারীরিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হিরা আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সব সময় গতানুগতিক ইভেন্ট হয়। কিন্তু এখানে এসে ধনুক তির শিখব, এটা আগে মাথায়ই আসেনি। প্রথম দিন একটু ঘাবড়ে গেলেও এখন মনে হচ্ছে, চুপচাপ দাঁড়িয়ে মনোযোগ দেওয়ার এই খেলাটার মজাই আলাদা। নতুন কিছু শিখছি, এটাই আসল।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী নুজহাত তন্নী তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আর্চারি শেখার সুযোগ পাব, এটা কখনো ভাবিনি। প্রথম দিন তির হাতে নেওয়ার সময় একটু নার্ভাস লাগলেও ধীরে ধীরে ভয়টা কেটে গেছে, আর ভেতরে একটা ভালো লাগা কাজ করেছে।’