আমার ও গোযায়ানের জন্য ২০২৫ সাল ছিল অসংখ্য প্রতিবন্ধকতায় পরিপূর্ণ। ভিসা জটিলতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের মানুষ ঘুরতে চাইলেও যেতে পারছিলেন না। এতে আমাদের পুরো মার্কেটটাই ছোট হয়ে যায়। তার ওপরে বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে ফেলায় জটিলতা আরও বেড়ে যায়। এসব জটিলতার পাশাপাশি গ্রাহকদের বিশ্বাস ধরে রাখাটাও ছিল কঠিন একটি কাজ। আমাদের মার্কেটেই কিছু ট্র্যাভেল কোম্পানি গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে চলে যায়। এটা গ্রাহকদের মনেও তৈরি করে একটা ভয় এবং অনিশ্চয়তা। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও আমরা স্বচ্ছভাবে এবং দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে গিয়েছি। আমাদের টিম সব সময়ই গ্রাহকদের সঙ্গে ছিল এবং তাদের বিশ্বাস কখনোই নষ্ট হতে দেয়নি। আর অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে এই বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছি দেখে আমরা এই ২০২৫ সালটা শেষ করেছি অত্যন্ত লাভজনকভাবে। এটা আমাদের একার কৃতিত্ব না। আমাদের গ্রাহকেরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রথম থেকেই তাঁরা আমাদের ওপর ভরসা রেখেছেন।
আমরা শুরু থেকে অনলাইনভিত্তিক হলেও সামনে দেশজুড়ে আমাদের সেবাগুলো নিয়ে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে সরাসরি চলে যাব। এ ছাড়া আমাদের ওয়েবসাইট আর অ্যাপে আমরা আরও অনেক দেশের ফ্লাইটের সংযোগ আনছি; যেন গ্রাহকেরা নিশ্চিন্তে যেকোনো দেশে যাওয়ার আগে আমাদের থেকে সেবা নিতে পারেন। আমাদের আরেকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘হোমটাউন’ আছে, যারা মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ফ্লাইট ও রেমিট্যান্স এ দুটি সার্ভিস নিয়ে আমরা এই দেশের গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করছি। প্রবাসীরা এখন নিজেরাই ন্যায্য দামে ফ্লাইটের টিকিট করতে পারছেন। আরও বেশি মানুষ বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সিঙ্গাপুরের ৩০ শতাংশ প্রবাসী বাঙালি হোমটাউনের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এর মধে৵র ৮০ শতাংশ প্রতিনিয়ত অ্যাপের মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করছেন। মাসিক রেমিট্যান্স ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে গেছে। হোমটাউনের প্রতি গ্রাহকদের বিশ্বাস আর ভালোবাসার কারণে আমরা এটা করতে পেরেছি। বিগত এক বছরে নানা প্রতিকূলতার পরে আমরা ভ্রমণ খাতে ও রেমিট্যান্সে বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে সেবা দিয়ে তাঁদের আস্থা অর্জন করেছি। তাঁদের এ আস্থা নিয়েই আমরা গোযায়ান আরও বড় একটি প্রতিষ্ঠান হতে চাই। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী ভাইদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চাই।
রিদওয়ান হাফিজ: প্রতিষ্ঠাতা, গোযায়ান