
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১টি গবেষণা কেন্দ্রের অধিকাংশই নিষ্ক্রিয়। অনেকগুলোর অফিস নেই। অনেকগুলোর নেই পরিচালক। হাতে গোনা যে কয়েকটি কেন্দ্র তুলনামূলক ভালো কাজ করছে, সেগুলোও আন্তর্জাতিক মানের কোনো কাজ নয় বলে জানিয়েছেন কিছু গবেষক। আবার কেউ কেউ দলীয় প্রভাবে গবেষণা কেন্দ্র খুলেছিলেন এবং দলীয় স্বার্থে সেগুলোকে ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।
অনেকগুলো কেন্দ্রে পরিচালকের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নিয়োগ বা মেয়াদ নবায়ন করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে পরিচালক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে দুটি সার্চ কমিটি গঠন করে প্রশাসন। ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং সেন্টার, রিফিউজি মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটি, পটলার সেন্টার ফর মার্কেটিং এক্সিলেন্সসহ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আরও কয়েকটি এবং বিজ্ঞান অনুষদ থেকে আরও দুটি কেন্দ্র বন্ধের সুপারিশ করেছে সার্চ কমিটি। সব মিলিয়ে ৮-১০টি কেন্দ্র বন্ধের সুপারিশ করেছে তারা।
এদিকে নতুন আরও ছয়টি কেন্দ্র খোলার জন্য কয়েকটি বিভাগ ও অনুষদের শিক্ষকেরা আবেদন করেছেন বলে রেজিস্ট্রারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সেন্টার ফর ইসলামিক বিজনেস রিসার্চ, একাউন্টিং রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ, রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সেন্টার ও ম্যানগ্রোভ রিসার্চ সেন্টার।
অপর দিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সমস্যাসহ নানা কারণে কার্যক্রমহীন গবেষণা কেন্দ্রগুলো বন্ধ বা সময়োপযোগী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন একটি সার্চ কমিটির আহ্বায়ক প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান স্টাডি সেন্টার নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে। ২০২১ সালের পর থেকে এই কেন্দ্রের কোনো কার্যক্রম নেই। কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সিকদার মনোয়ার মুর্শেদ নিজেই এই কেন্দ্রটি বন্ধের সুপারিশ করেছিলেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামালের কাছে।
বর্তমান উপাচার্যের কাছেও তিনি একই কথা বলেছেন। এই অধ্যাপক মনে করেন, যে কেন্দ্রগুলো তেমন সক্রিয় নয় সেগুলো বন্ধ করে সক্রিয় কেন্দ্রগুলোকে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।
সেন্টার ফর বুড্ডিস্ট হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার নামে একটি সেন্টারে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একটি সেমিনার ও শুধু বুদ্ধপূর্ণিমা-২০২৪ উদ্যাপন করেছে। নজরুল গবেষণা কেন্দ্র নামে একটি কেন্দ্রে এ বছরের মে মাস থেকে কোনো পরিচালক নেই এবং এই কেন্দ্রের কোনো কার্যক্রমও নেই গত এক বছরে ।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের কার্যালয়েও পরিচালক নেই। বার্ষিক বিবরণীতে এই কেন্দ্র সম্পর্কে লেখা আছে, ২০০২–০৩ বর্ষ থেকে এর যাত্রা শুরু হলেও লোকবল এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে কার্যক্রম ব্যাপকতা পায়নি। এই গবেষণা কেন্দ্রের নিজস্ব কোনো কার্যালয়ও নেই। গত কয়েক বছরে এই কেন্দ্রের কোনো কার্যক্রমই লক্ষ করা যায়নি।
দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য গবেষণা কেন্দ্রটিরও আলাদা কোনো কার্যালয় নেই। প্রতিবছর একটি করে গবেষণা পত্রিকা ও কিছু সেমিনার আয়োজন করা ছাড়া এই গবেষণা কেন্দ্রটিরও তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। আন্তধর্মীয় ও আন্তসাংস্কৃতিক সংলাপ কেন্দ্র কার্যক্রম হিসেবে র্যালি, সেমিনার, গান ও বিতর্কের আয়োজন করেছে কয়েক বছরে।
নৈতিক গবেষণা কেন্দ্রেরও কোনো কার্যালয় নেই। বার্ষিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ কেন্দ্রটি পাঁচটি সেমিনার ও মাত্র একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে। সেন্টার ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন কয়েকটি সেমিনার, কর্মশালা ও আলোচনা সভা ছাড়া মৌলিক কোনো গবেষণা করেনি প্রতিষ্ঠার পর থেকে। বার্ষিক বিবরণীতেও এই কেন্দ্রের কোনো তথ্য নেই। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ কেন্দ্রটির বর্তমানে কোনো কার্যালয় নেই। গত কয়েক বছরের কোনো কাজের বিবরণ পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরবরিকালচার সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বৃক্ষায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কাজ করছে। এই সেন্টারেরও কোনো কার্যালয় নেই। বরাদ্দ কম থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রগুলো ভালো গবেষণামূলক কাজ করতে পারছে না বলে মনে করেন এই কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি মনে করেন, গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে যে বরাদ্দ আসে তা খুবই অপ্রতুল। গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সরকারিভাবে কেন্দ্রগুলোকে দেখভাল করা উচিত।
সেন্টার ফর ইংলিশ টিচিং অ্যান্ড রিসার্চ কেন্দ্রটি ইংরেজি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। শুধু ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এই কেন্দ্রের ল্যাব ব্যবহার করতে পারেন। এই কেন্দ্রেরও কোনো কার্যালয় নেই। ওয়ার্কশপ, জার্নাল প্রকাশ ছাড়া মৌলিক কোনো গবেষণা কার্যক্রম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্র সম্পর্কে বার্ষিক বিবরণী বা ওয়েবসাইটেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্ক্যান্ডেনেভিয়ান স্টাডি সেন্টার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক সিকদার মনোয়ার মুর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো গবেষণা কেন্দ্র আছে যেগুলো শুধু কয়েকটি সেমিনার, কর্মশালা করে। কিন্তু সেমিনার আয়োজনের জন্য তো গবেষণা কেন্দ্রের প্রয়োজন নেই। সেমিনারের মতো এ ধরনের কাজ নিজ বিভাগ থেকেই করা সম্ভব। এ ধরনের কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়ে যেগুলো গবেষণাধর্মী কাজ করছে সেগুলো রাখা উচিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনজন শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেছেন, গবেষণা কেন্দ্রগুলো মধ্যে পাঁচ ছয়টি ছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলোর তেমন কোনো কার্যক্রম নেই।
ইস্ট এশিয়ান স্টাডি সেন্টার, সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স স্টাডিজ, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ, সেন্টার ফর আরবান রেজিলিয়েন্স স্টাডিজের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। অ্যারাবিক টিচিং ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ওশান গভর্ন্যান্স সেন্টার সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে সমুদ্র ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছে। সেন্টার ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনেরও তেমন কোনো কার্যক্রম নেই।
সার্চ কমিটির আহবায়ক রেজাউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এখন পরিকল্পনা হচ্ছে—যে সেন্টারগুলো ভালোভাবে কাজ করতে পারবে, সেগুলোকে টিকিয়ে রাখা হবে। ভালো লোক নিয়োগ দিয়ে এগুলোকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা হচ্ছে। যেগুলো একদমই অচল সেগুলো বন্ধের সুপারিশ করেছি। আমরা ইতোমধ্যেই ৮–১০টা সেন্টার বন্ধের সুপারিশ করেছি।’
আরেকটি কমিটির আহ্বায়ক প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক লায়লা নূর ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যেসব কেন্দ্র একেবারেই নিষ্ক্রিয় সেগুলোর বিষয়ে ডিনদের কাছে চিঠি দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ফ্যাকাল্টি পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন—এসব কেন্দ্র সচল করা হবে কি না। একটি ইতিবাচক দিক হলো—যেসব কেন্দ্র নিষ্ক্রিয়, তাদের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ হয়নি। ফলে অর্থ অপচয় হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের মোট গবেষণা খাতে খরচ ছিল ১০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। কেন্দ্রগুলো খরচ করেছে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে গবেষণা খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি ৫ লাখ, খরচ হয়েছে ১৪ কোটি ৯৮ লাখ। এই অর্থবছরে গবেষণা কেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ৯ কোটি টাকা, কিন্তু খরচ করেছে ৮ কোটি ৩ লাখ টাকা।
২০২৩ -২৪ অর্থবছরে মোট গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। কেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা, খরচ হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ২০ কোটি ৫ লাখ টাকা, কেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
অর্থাৎ কেন্দ্রগুলোকে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার পুরোটা ব্যয় হচ্ছে না। অনেকগুলো কেন্দ্র বরাদ্দের টাকা খরচ করতে পারেনি।
সার্চ কমিটি জানিয়েছে, মূলত তিনভাবে এই গবেষণা কেন্দ্রগুলো গড়ে উঠেছে। প্রথমত, কিছু কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয়। দ্বিতীয়ত, কিছু কেন্দ্র বিভাগীয় প্রধানের তত্ত্বাবধানে বিভাগভিত্তিকভাবে গড়ে উঠেছে। তৃতীয়ত, কিছু কেন্দ্র শিক্ষকদের ব্যক্তিগত উদ্যাগে গড়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সার্চ কমিটির এক সদস্য জানান, বিগত সময়ে কখনো কখনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় শিক্ষকরা গবেষণা কেন্দ্রের নেতৃত্ব পেয়েছেন, কিন্তু সেভাবে মানসম্মত গবেষণা করেননি। আবার কেন্দ্রগুলোকে কাজে লাগিয়ে দলীয় এজেন্ডাও বাস্তবায়ন হয়েছে এমনটা জানিয়েছে কমিটি। কিছু কেন্দ্র প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে অনেক বেশি অর্থ পেয়েছে, যেমন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা উইমেন স্টাডিজ সেন্টার। বর্তমানে এর নাম পরিবর্তিত হয়ে সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন স্টাডিজ করা হয়েছে।
ওই সদস্য জানান, কিছু কেন্দ্রের অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। কখনো কখনো সেন্টারগুলো ভালো কাজও করেছে। তবে এই কাজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য অর্জনের সঙ্গে মানানসই হয়নি। সেন্টারগুলো যদি গবেষণার মান ও প্রকাশনার মানের দিকে মনোযোগ দেয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং বা শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে, তাহলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
সার্চ কমিটি বলছে, গবেষণায় বরাদ্দ কম হওয়া সবচেয়ে বড় বাধা। যেসব গবেষক আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করেন, আর্থিক প্রণোদনা ও স্বীকৃতির অভাবে তাঁরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কমিটির মাধ্যমে যেসব কেন্দ্রের গঠনতন্ত্র নেই, সেগুলোতে নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি হচ্ছে। পরিচালক বা চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যেসব কেন্দ্র সম্পূর্ণ অকার্যকর, সেগুলো বন্ধের সুপারিশ করা হচ্ছে।
একটি সার্চ কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো অন্তত কয়েকটি কেন্দ্রকে শক্তিশালী করে সেখানে গবেষণা অনুদান আনা। ভালো একাডেমিশিয়ানরা পরিচালক হলে তাদের নিজস্ব সংযোগ ও একাডেমিক প্রোফাইল কাজে লাগিয়ে এসব কেন্দ্রকে এগিয়ে নিতে পারবেন।’
সার্চ কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রগুলোর পরিচালক হওয়ার জন্য শিক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ কমছে। কারণ দায়িত্ব নিলে খুব বেশি সুযোগ-সুবিধা নেই। আরেকটি সার্চ কমিটির আহ্বায়ক লায়লা নূর ইসলাম জানান, যিনি পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান, কেন্দ্রের আলাদা অফিস না থাকলে তিনি সাধারণত নিজের বিভাগের অফিস রুমেই কাজ চালান। আলাদা কোনো জায়গা নেই, শুধু হয়তো আলমারিতে কাগজপত্র রাখার মতো সামান্য ব্যবস্থা থাকে।
অফিস থাকলেও পরিচালনার ক্ষেত্রেও খুব সীমিত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যেমন কোনো অফিস সহকারী বা পিয়ন রাখার মতো তহবিল নেই। অথচ চিঠিপত্র আনা-নেওয়া, ফটোকপি করা, বিভিন্ন কাজে সহায়তা করার জন্য একজন সহকারী খুব প্রয়োজন হয়। পরিচালকের সম্মানীও খুব সামান্য। সাধারণত মাসে নামমাত্র ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
লায়লা নূর ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, একটি গবেষণা কেন্দ্রের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটও খুব সীমিত। এই টাকা থেকেই পরিচালকের সম্মানী, অফিস সহকারীর সম্মানী ইত্যাদি খরচ বাদ দিলে হাতে থাকে গবেষণার জন্য খুব সামান্য পরিমাণ অর্থ। ফলে তহবিলের অভাবে খুব বেশি প্রজেক্ট নেওয়া সম্ভব হয় না। বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।