আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলককে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলককে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কাঠগড়ায় মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পলক, অন্য আসামির সঙ্গে গল্প করছিলেন আনিসুল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার এই মামলায় আজ রোববার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।

শুনানি চলাকালে কাঠগড়ায় পলক বাঁ হাত মুখে দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্যদিকে আনিসুল হক আরেক মামলার আসামি মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের সঙ্গে গল্প করছিলেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মামুন (২৫) নামের এক গাড়িচালকের বাঁ চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইন। মামলায় আনিসুল ও পলককে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনে বলা হয়, আনিসুল ও পলক অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

আজ বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে হাজতখানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তাঁদের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং কিছুক্ষণ পর শুনানি শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের বিরোধিতা করেন পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি আদালতে বলেন, আসামি পলকের নাম এই মামলার এজাহারে নেই। ঘটনার সাত মাস পর মামলাটি হয়। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধের বর্ণনা নেই।

শুনানি চলাকালে পলককে কাঠগড়ায় বাঁ হাত মুখে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর অন্য হাতে ছিল হাতকড়া।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, শেখ হাসিনার পঞ্চপাণ্ডবের একজন ছিলেন আনিসুল। পলক ছিলেন জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে সমর্থন জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করেন আনিসুল হকের আইনজীবী। শুনানি চলাকালে আনিসুল হক আরেক মামলার আসামি নাসির উদ্দিনের সঙ্গে গল্প করছিলেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে আদেশ দেন আদালত।

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পাপ্পু চৌধুরী হত্যা মামলায় নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সৌমিত্র সরকার। শুনানি শেষে একই আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

পরে পুলিশি নিরাপত্তায় আসামিদের আদালত ভবনের সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়া হয়।