পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীনেত্রী কল্পনা চাকমার অপহরণের ৩০ বছর পূর্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্ট (এআইপিপি), ল্যান্ড ইজ লাইফ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ), নেটওয়ার্ক অব ইন্ডিজেনাস উইমেন এশিয়া (নিওয়া) এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ক গ্রুপ ফর ইন্ডিজেনাস অ্যাফেয়ার্স (আইডব্লিউজিআইএ) এসব দাবি জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কল্পনা চাকমাকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার তিন দশক পরও তাঁর ভাগ্য বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনাকে এখনো চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
নিখোঁজ হওয়ার সময় কল্পনা চাকমার বয়স ছিল ২৩ বছর। তিনি হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মানবাধিকারকর্মী হিসেবে তাঁর সক্রিয় ভূমিকাই তাঁকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।
সংগঠনগুলোর দাবি, অপহরণের সময় কল্পনা চাকমার দুই ভাইকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং অন্তত তিনজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযোগ গঠন ছাড়াই তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রধান সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। এতে কার্যত তাঁর জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে।
বিচার চাওয়ার কারণে কল্পনা চাকমার পরিবারকে বছরের পর বছর হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনগুলোর মতে, কল্পনা চাকমার মামলা বাংলাদেশের, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের, প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তির সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীকী উদাহরণ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত, স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনা করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কল্পনা চাকমার অপহরণ ও গুমের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার দাবি জানানো হয়।