ভারত সফর ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক যদি পজিটিভ দিকে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে আমরা কিছুটা ভালো প্রোগ্রেস করতে পারব। ওই দিক থেকে এটি ফলপ্রসূ সফর। ওখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। দুটি মিটিংই ইতিবাচক।’
আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আশা করি, আগামী সপ্তাহে আমরা বৈঠকের কিছু পজিটিভ দিক দেখতে পাব। আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, মেডিক্যাল ভিসাগুলা যেন তাড়াতাড়ি চালু করে দেওয়া হয়। তাঁরাও বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।’
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তাঁরা সম্প্রতি ভারত সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
৭ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরে যান। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি সব সময় আলোচনায় থাকবেই। কারণ, এটি নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের আগ্রহ রয়েছে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘একজন স্বৈরাচার ও সন্ত্রাসী ভারতের মাটিতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে অবস্থান করছে। এই সন্ত্রাসী বাংলাদেশের দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে গেছে। এটা আমরা আলোচনায় বলেছি, তার স্থান বাংলাদেশে আর হবে না।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা বলেছি, শেখ হাসিনা ভারতের মাটিকে ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে। এমনকি তাঁকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টি আমরা জোরালোভাবে জানিয়েছি। সব কিছু স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এখনো ফাইনাল কিছু হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদেশ নীতি সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখার মাধ্যমে প্রজেক্ট করতে চাইছেন বা আমরা চাইছি, যাতে এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহায়তা জোরদার করা যায়। স্বাভাবিকভাবে এই অঞ্চলের ভেতর ভারত সফর হতেই পারে, কিন্তু এখনো ফাইনাল কিছু না, হতে পারে, এটা বিবেচনাধীন আছে।’
জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সেখানে কিলারদের ধরা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আলোচনায় বলেছি, বন্ধুত্বের সম্পর্ক জোরদার করতে হলে দুই পক্ষ থেকে আমাদের সমানভাবে অগ্রসর হতে হবে। এক দিনে সব আলোচনা করা যাবে না। যদি দুই দেশের মাইন্ডসেট ঠিক থাকে, তাহলে ইতিবাচক যেকোনো কিছু করা সম্ভব।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা যখন সেখানে আছেন, চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে কীভাবে আমরা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে অন্য কাজগুলো এগিয়ে নেব, সে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।’
জ্বালানিসংকট নিরসনে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘জ্বালানি খাতে তাদের কিছু সহযোগিতা আমরা পেয়েছি, পাইপলাইনে আছে, এটার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। যেখানে সহযোগিতা আরও লাগবে, ওখানে আমরা সহযোগিতা পাব—এই বিষয়ে তারা আশ্বস্ত করেছে। এ বিষয়ে তেমন জোরালো কোনো আলোচনা সেখানে হয়নি।’
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট ছিল না উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট ছিল না। দেশের জন্য জনগণের মানুষের ম্যান্ডেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই–তৃতীয়াংশ মানুষের ভোটের ওপর ভিত্তি করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা নতুন সরকার গঠন করেছি। সুতরাং আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। আমরা বড় গলায় কথা বলতে পারি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’