রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ সোমবার কামরুদ্দীন আবসারের প্রতি সর্বস্তরের মানুষ শেষশ্রদ্ধা জানান
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ সোমবার কামরুদ্দীন আবসারের প্রতি সর্বস্তরের মানুষ শেষশ্রদ্ধা জানান

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কামরুদ্দীন আবসারের প্রতি শেষশ্রদ্ধা

প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীতশিক্ষক কামরুদ্দীন আবসারের প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কামরুদ্দীন আবসারের মরদেহ আনা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব চলে।

শহীদ মিনারে কামরুদ্দীন আবসারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক–সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। এ ছাড়া নানা সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কামরুদ্দীন আবসারের মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। বাদ জোহর এখানে তাঁর জানাজা হবে। জানাজা শেষে রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

গত শনিবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামরুদ্দীন আবসার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ২০১১ সালে স্ট্রোক করার পর থেকে তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে গত ১৪ মে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কামরুদ্দীন আবসার স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী কবি ফেরদৌসী বেগম। ছেলে আদনান মুকিত শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় মাসিক ম্যাগাজিন কিশোর আলোর নির্বাহী সম্পাদক।

কামরুদ্দীন আবসার দীর্ঘদিন প্রগতিশীল লেখকসংগঠন ‘বাংলাদেশ লেখক শিবির’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সমাজবদলের রাজনৈতিক–সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘গণসংস্কৃতি ফ্রন্ট’-এর একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। গণসংগীত দল ‘সৃজন’-এর সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি রক্ষার জন্য ২০০৬ সালে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এই আন্দোলনে ‘গণসংস্কৃতি ফ্রন্ট’ থেকে কামরুদ্দীন আবসার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

বামপন্থী আদর্শভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে কামরুদ্দীন আবসারের নিবিড় সম্পর্ক ছিল। কৃষক-শ্রমিকের মুক্তির সংগ্রামে সাংস্কৃতিক লড়াইকে এগিয়ে নিতে তিনি কাজ করেন। গণসংগীতের চর্চা, রচনা ও সুরারোপের পাশাপাশি তিনি শিশুদের অসংখ্য ছড়ায় সুর দেন। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান গাইতেন তিনি। পাশাপাশি তিনি প্রগতিশীল ঘরানার বই প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীপ্র নামে তাঁর একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছিল।