মৌলভীবাজারের কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ঘেঁষে একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ঘেঁষে একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং

শতকোটি টাকা খরচেও হয়নি নিরাপদ, এবার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় গেটম্যান ছাড়াই সুরক্ষার আশা

গত ঈদুল ফিতরের দিন রাতে কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। বাসটিকে টেনেহিঁচড়ে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে নিয়ে থেমেছিল ট্রেনটি। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসটিতে থাকা ৩টি শিশুসহ ১২ জন প্রাণ হারান, গুরুতর আহত হন বাসটির চালকসহ অন্তত ২৪ জন।

দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে। কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, ওই সময় দায়িত্ব পালনের কথা ছিল রেলওয়ের দুই গেটম্যান মো. মেহেদী হাসান ও মো. হেলাল উদ্দিনের। কিন্তু তাঁরা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে টাকার বিনিময়ে নাজমুল হোসেন ও কাউসার হোসেন নামের অন্য দুই গেটম্যানের সঙ্গে দায়িত্ব বদল করেন। এরপর মেহেদী ও হেলাল বাড়ি চলে যান। দায়িত্ব বদলের বিনিময়ে টাকা নেওয়া দুই গেটম্যান নাজমুল ও কাউসার আবার তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ট্রেন আসার সময় গেট ব্যারিয়ার (প্রতিবন্ধক) না ফেলায় রেলপথের ওপর যাত্রীবাহী বাস চলে আসে।

এ তো গেল লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার একটি নজির। গত বছরের ২ আগস্ট কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীতে একটি দুর্ঘটনা ঘটে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে। কক্সবাজার এক্সপ্রেসের একটি বাসের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশুসহ চারজন নিহত হন।

লেভেল ক্রসিংয়ের উন্নয়নে রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম—দুই অঞ্চলে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৫ সালে। প্রকল্প দুটির কাজ শেষ হয়েছে। পূর্বাঞ্চলে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা। আর পশ্চিমাঞ্চলে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুটি প্রকল্পে মোট ব্যয় ৩৩৪ কোটি টাকা। এরপরও লেভেল ক্রসিংয়ে প্রাণহানি থামছে না। কখনো গেটম্যানের ভুলে, কখনো অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে কোনো গেটম্যান বা কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। পরবর্তী সময়ে ওই রেলপথে অরক্ষিত ক্রসিং নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর আগে গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে একাধিক অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন।

সাম্প্রতিক সময়ে এর বাইরে ফরিদপুর, নরসিংদী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওয়ে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং, গেটম্যানের সংকট ও নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, লেভেল ক্রসিংয়ের উন্নয়নে রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম—দুই অঞ্চলে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৫ সালে। প্রকল্প দুটির কাজ শেষ হয়েছে। পূর্বাঞ্চলে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা। আর পশ্চিমাঞ্চলে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুটি প্রকল্পে মোট ব্যয় ৩৩৪ কোটি টাকা।

কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড়

প্রকল্পের টাকায় কিছু কিছু ক্রসিংয়ে যন্ত্রপাতি বসানো, প্রতিবন্ধক স্থাপন ও গেটম্যান দেওয়া হয়েছে। এরপরও লেভেল ক্রসিংয়ে প্রাণহানি থামছে না। কখনো গেটম্যানের ভুলে, কখনো অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

যদিও লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ রেল বিভাগের অগ্রাধিকারের বিষয় বলে জানালেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেভেল ক্রসিং নিরাপদ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, লেভেল ক্রসিং উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের অধীনে গেটম্যান নিয়োগ, গুমটিঘর নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ, ক্রসিংয়ের কাছে সড়ক মেরামত, প্রতিবন্ধক স্থাপন করা হয়। শুরুতে দুটি প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৯৭ কোটি টাকা। পরে দফায় দফায় ব্যয় বেড়ে ৩৩৪ কোটিতে ঠেকে। প্রকল্পটি এখনো চলমান। গেটম্যানদের বেতনের একটা বড় অংশ প্রকল্প থেকে দেওয়া হয়। ফলে প্রতিবছর বেতন-ভাতা বহন করে যেতে হবে।

দুই হাজারের বেশি ক্রসিং অরক্ষিত

দেশে রেলপথ আছে ৩ হাজার ৪২৮ কিলোমিটার। এই পথে লেভেল ক্রসিং আছে ৩ হাজার ২৮৬টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ১ হাজার মিটারের মধ্যে একটি ক্রসিং রয়েছে। আর এসব ক্রসিংয়ের মধ্যে ২ হাজার ১৪৪টিতে কোনো গেটম্যান বা প্রতিবন্ধক নেই। এই ক্রসিংগুলো পুরোপুরিই অরক্ষিত। অর্থাৎ দেশের লেভেল ক্রসিংয়ের ৬৫ শতাংশই অরক্ষিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেভেল ক্রসিং নিরাপদ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ফাহিমুল ইসলাম, সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়

অরক্ষিত ক্রসিংয়ের বড় অংশই অনুমোদনহীন। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রেলের অনুমতি না নিয়েই রেলপথের ওপর দিয়ে সড়ক নিয়ে গেছে। ফলে এগুলোর দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষ নিতে রাজি নয়।

অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে সতর্কতার নোটিশ ঝুলিয়ে দায় সারছে রেল বিভাগ। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আধুনগর ইউনিয়নে

রেলপথের ওপর দিয়ে যখন সড়ক যায়, তার সংযোগস্থলকেই লেভেল ক্রসিং বলা হয়। এগুলোকে বৈধ, অবৈধ, পাহারাদার আছে (ম্যানড), পাহারাদার নেই (আনম্যানড)—এভাবে শ্রেণীকরণ করে রেল কর্তৃপক্ষ। যেসব ক্রসিংয়ে পাহারাদার আছেন, সেগুলোতে লোহার প্রতিবন্ধক থাকে। পাহারাদার ট্রেন আসার সংকেত পেয়ে প্রতিবন্ধক নামিয়ে অন্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে পাহারাদার ভুল না করলে যানবাহনের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হওয়ার সুযোগ নেই। পাহারাদার ও প্রতিবন্ধক থাকা রেলক্রসিংয়ে তাই দুর্ঘটনাও খুব কম। পাহারাদার নেই—এমন ক্রসিংগুলোই অরক্ষিত।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, এলজিইডি ও ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তাতেই বেশি অবৈধ লেভেল ক্রসিং। অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ‘সাবধান, এই গেটে কোনো গেইটম্যান নেই’ লেখা একটা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দায়িত্ব শেষ করে রেল কর্তৃপক্ষ। কোথাও কোথাও এই সাইনবোর্ডও পাওয়া যায় না।

লেভেল ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুটি পদ্ধতি রয়েছে। ১. ট্রেন আসার আগে থেকেই ক্রসিংয়ে বার্তা পাঠানো হয়। এ ব্যবস্থায় ক্রসিংয়ে থাকা রেলের লাইনটিকে ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা ট্র্যাক সার্কিট ব্যবস্থাপনা বলা হয়। ২. রেললাইনে এক্সেল কাউন্টার নামে প্রযুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে ট্রেনের আগমনের বার্তা দেওয়ার আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে। ট্রেনের চাকার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই ব্যবস্থায় লেভেল ক্রসিংয়ে বার্তা পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দেশে রেলপথ আছে ৩ হাজার ৪২৮ কিলোমিটার। এই পথে লেভেল ক্রসিং আছে ৩ হাজার ২৮৬টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৯৫০ মিটারের মধ্যে একটি করে ক্রসিং। এসব ক্রসিংয়ের মধ্যে ২ হাজার ১৪৪টি অরক্ষিত, অর্থাৎ সেখানে কোনো গেটম্যান বা প্রতিবন্ধক নেই। দেশের লেভেল ক্রসিংয়ের ৬৫ শতাংশই এমন অরক্ষিত।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, দুটি ব্যবস্থাতেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। রেলপথে ত্রুটি থাকলে বার্তা পাঠাতে সমস্যা হয়। এর মধ্যে ট্র্যাক সার্কিট ব্যবস্থা স্থাপনে প্রতিটি লেভেল ক্রসিংয়ে ব্যয় হবে ৩০–৪৫ লাখ টাকা। আর এক্সেল কাউন্টার ব্যবস্থা স্থাপনে প্রতিটি ক্রসিংয়ে ব্যয় এক কোটি টাকার বেশি হবে।

রেলের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ট্রেন চলাচলের যে সংকেতব্যবস্থা রয়েছে, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১৫৪টি লেভেল ক্রসিং। ফলে এসব ক্রসিংয়ে ট্রেন আসার আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পৌঁছে যায়। ক্রসিংয়ে সতর্কঘণ্টা বেজে ওঠে। গেটম্যান তখন প্রতিবন্ধক ফেলে যান চলাচল আটকে দেন। আর ৩৫৯টি ক্রসিংয়ে কাছাকাছি থাকা স্টেশন থেকে ফোনে ট্রেনের আগমনের বার্তা পাঠানো হয়। বার্তা পেয়ে গেটম্যান প্রতিবন্ধক ফেলেন। বাকি ৬৩৯টি ক্রসিংয়ে গেটম্যান আছেন। তবে তাঁরা ট্রেন আসার আওয়াজ শোনেন কিংবা সময় মাথায় রেখে প্রতিবন্ধক ফেলেন। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কেউ ভুল করলেই দুর্ঘটনা ঘটে।

নতুন প্রকল্পের চিন্তা

লেভেল ক্রসিং নিরাপদ করতে বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর জন্য একাধিক প্রকল্পও বিবেচনায় আছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে টঙ্গী পর্যন্ত ৯৬টি লেভেল ক্রসিং আছে। এগুলোতে পাতালপথ নির্মাণে প্রকল্প নিতে চাইছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্প ব্যয়বহুল। আর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণ করাও জটিল।

কম খরচের মধ্যে রেডিও ওয়ার্নিং ব্যবস্থা নামে একটি পদ্ধতি পরীক্ষামূলক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রতিটি ক্রসিংয়ে সাড়ে ১২ লাখ টাকার মতো খরচ করতে হবে। সারা দেশের লেভেল ক্রসিংয়ে এ ব্যবস্থা চালু করতে হলে ৪০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। এ ব্যবস্থার জন্য প্রতিটি রেলের ইঞ্জিনেও যন্ত্র লাগাতে হবে। প্রতিটি ট্রেনে যন্ত্র স্থাপন করতে খরচ হবে আরও প্রায় আট লাখ টাকা। সব ট্রেনে যন্ত্র বসাতে ২০ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রেডিও ওয়ার্নিং ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাটি স্থাপন করা হলে ট্রেন আসার এবং এর গতিপথ সম্পর্কে তথ্য যাবে ক্রসিংয়ে। সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিবন্ধক নেমে যাবে এবং যান চলাচল আটকে দেবে। পাশাপাশি ট্রেনে থাকা চালকও ক্রসিংয়ের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত হতে পারবেন। পুরো ব্যবস্থা জিপিএস সংকেতব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তা পরিচালিত হবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের পটিয়ার দক্ষিণ ভূর্ষি-কেলিশহর সড়কে মাতৃভান্ডার এলাকায় একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং

ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থার সঙ্গে অটোমেটিক ট্রেন প্রটেকশন ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। এতে কোথাও নাশকতার মাধ্যমে রেলপথ কেটে দেওয়া হলে, একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে ট্রেনে থাকা চালককে বার্তা দেবে। যাতে চালক দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন থামিয়ে দিতে পারেন।

এ ছাড়া ক্রসিংয়ে ট্রেন আসার সময় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ সড়কে যেভাবে সংকেতবাতি কত সময় পর সবুজ হবে, তা কাউন্টডাউন হয়, একইভাবে ট্রেনটি কত সময় পর ক্রসিংয়ে আসবে, তা দেখানো হবে। একই সঙ্গে ক্রসিংয়ে সতর্কঘণ্টা ও ফ্লাশলাইটের মাধ্যমে পথচারী ও সড়কের যানবাহনকে সতর্ক করা হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, গত ঈদুল ফিতরের দিন কুমিল্লায় দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানির পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেভেল ক্রসিং নিরাপদ করার নির্দেশনা দেন। গত মে মাসে রেলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানানো হয়। এ সময় বুয়েটের বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। তাঁরা লেভেল ক্রসিং নিরাপদ করতে প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী বুয়েটের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বুয়েট যে ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে দেশীয় অভিজ্ঞতার মিশেল। প্রযুক্তি ও উপকরণ স্থানীয়। খরচও কম হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাদীউজ্জামান, অধ্যাপক, বুয়েট

বুয়েটের এ ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছেন কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম আলিম আল ইসলাম। আর ব্যবস্থাটির তদারক করছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাদীউজ্জামান।

হাদীউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বুয়েট যে ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে দেশীয় অভিজ্ঞতার মিশেল। প্রযুক্তি ও উপকরণ স্থানীয়। খরচও কম হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হাদীউজ্জামান আরও বলেন, এখন লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা পুরোপুরি গেটম্যানের ওপর নির্ভর করে। নতুন ব্যবস্থা চলবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। তবে গেটম্যানও থাকবে। ভবিষ্যতে হয়তো পুরোপুরি যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নতুন ব্যবস্থাটির পরীক্ষা শিগগিরই শুরু হবে।