মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আরও একটি মামলায় বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু ও তাঁর ভাই রুপন ভূঁইয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া একই মামলায় আরও সাতজনকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৬–এর বিচারক মাসুদ পারভেজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারাদণ্ড পাওয়া অন্য সাতজন হলেন এনামুলের ভাই শহিদুল হক ভূঁইয়া, রশিদুল হক ভূঁইয়া ও মিরাজুল হক ভূঁইয়া (শিপলু), তুহিন মুন্সি, নবীর হোসেন সিকদার, সাইফুল ইসলাম ও জয় গোপাল সরকার। রায় ঘোষণার পর এনু, রুপন, শহিদুল, নবীর, সাইফুল ও জয় গোপালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর পলাতক মেরাজুল ও তুহিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আরেক মামলায় এনামুল হক ও রুপন ভূঁইয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত। পাশাপাশি তাঁদের ৫২ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়। এর আগে ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল দুই ভাইসহ ১১ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার আরেকটি আদালত।
২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল ও রুপনদের পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের বাসাসহ তাঁদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাড়ে সাত কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় তাঁদের নামে ছয়টি মামলা হয়।
পরে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এনামুল ও রুপনদের পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। ওই বাড়ি থেকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা জব্দ করা হয়। আর ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজপত্র পাওয়া যায়। সোনা পাওয়া যায় এক কেজি। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের নামে আরও দুটি মামলা হয়।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে এ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এনামুল ও রুপনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে।