
চট্টগ্রামভিত্তিক দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, ‘প্রকৃত সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হলে তথ্যের শূন্যস্থান তৈরি হয়। আর এই শূন্যস্থান দখল করে নেয় ফেক নিউজ বা ভুয়া সংবাদ, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে, সমাজে অস্থিরতা বাড়ায়। এই পরিস্থিতি কখনো মঙ্গল বয়ে আনে না, কখনো আনেনি।’
মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’-এ এসব কথা বলেন এম এ মালেক। আজ শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে শুরু হয়েছে এই গণমাধ্যম সম্মিলন।
সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করেছে।
এম এ মালেক বলেন, ‘আমরা যারা আজ এখানে সমবেত হয়েছি, আমরা কারও বিরুদ্ধে নই। আমরা শুধু সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথটা মুক্ত রাখার আহ্বান জানাতে এসেছি। দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যে ভয়হীন পরিবেশে, কোনো বাধা ছাড়াই চলতে পারে—সে আবেদন নিয়ে এসেছি। সেই দাবি জানাতে এসেছি।’
নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এম এ মালেক বলেন, ‘ছয় দশকের বেশি সময় সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িত, সব সময় সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পক্ষে বলে এসেছি। আমি জানি, আমাদের সমাজে এটা অত্যন্ত কঠিন, কত ভয় দেখানো হয়, কত বাধা আসে; বাধা পার করি। প্রতিটি বাধাই আমাদের নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যায়, নতুন স্বপ্ন দেখি। ভাবি এই বুঝি মুক্তি, মুক্ত সাংবাদিকতার পথ অবারিত হলো, প্রশস্ত হলো, কিন্তু দেখি আবার অন্য রকম প্রতিবন্ধকতা এসে হাজির হয়।’
সংবাদ বিষয়ে যেকোনো মামলার ক্ষেত্রে প্রথমে প্রেস কাউন্সিলে আসতে হবে উল্লেখ করে আজাদী সম্পাদক বলেন, বিষয়টি সরাসরি আদালতে গেলে সাংবাদিকদের হয়রানির কারণ হয়ে ওঠে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের দেশের বিভিন্ন জেলার মামলার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যমের উন্নতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মিলনে গণমাধ্যমের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সাংবাদিকেরা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকেরা সম্মিলনে অংশ নিয়েছেন।
দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার জন্য একসঙ্গে দাঁড়ানোর এ আয়োজনে আমন্ত্রিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও কলাম লেখকেরা অংশ নিয়েছেন।