
দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ, হত্যা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদী সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই প্রতিবাদী সমাবেশ হয়। সমাবেশ থেকে ধর্ষণ রোধে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর, জাতীয় কমিশন গঠন, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মো. শেখ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, ধর্ষণের মতো অপরাধ রোধে সরকারের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। কেবল অপরাধের খবর নয়, বরং অপরাধীর শাস্তির খবরও গণমাধ্যমে প্রচার করতে হবে। মানুষ যেন দেখতে পায় যে অপরাধ করলে পার পাওয়া যায় না।
ধর্ষণের ঘটনাগুলোতে প্রায়ই রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে বলে মন্তব্য করেন শেখ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের উচিত, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা। কোনো অপরাধীকে আশ্রয় না দেওয়া।
ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন শেখ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, এই কমিশনে শিক্ষাবিদ, অ্যাকটিভিস্ট ও এনজিও প্রতিনিধিদের রাখা উচিত। তাঁরা ধর্ষণের পেছনের কারণগুলো নিয়ে গবেষণা করবেন। পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করবেন।
একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের মানুষ আরেকটি বীভৎস ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। ধর্ষণ রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়া হোমায়রা বলেন, একজন নারী যখন ঘর থেকে বের হন, তখন তাঁর মনে প্রথম চিন্তা থাকে যে তিনি নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারবেন কি না। যখন ছয় বছরের একটি শিশুকেও এই আশঙ্কায় থাকতে হয়, তখন বুঝতে হবে, পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। শিক্ষায় বা কর্মক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত রাস্তায় বা জনপদে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ তাঁদের ক্ষমতায়ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।