বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

লোডশেডিং সীমিত রাখতে গত বছরের মতোই ব্যবস্থা: বিদ্যুৎ উপদেষ্টা

আসন্ন পবিত্র রমজান ও গ্রীষ্মে লোডশেডিং সীমিত রাখতে গত বছরের মতোই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন আগামী রোজায় ব্যাপক লোডশেডিং হবে। গত রোজার আগেও একই কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু গত গ্রীষ্মে তেমন লোডশেডিং হয়নি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। দায়িত্বপালনের এই সময়ে তাঁর তিন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়েরও উপদেষ্টা।

এক প্রশ্নের জবাবে ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকারের কাছে কোনো জাদুর কাঠি নেই যে বললেই সমাধান হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, যে পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, তার চেয়ে জ্বালানি খাত এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে। সরকার অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে।

স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগ আসে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রস্তুতির কাজ সব হয়ে গেছে, নতুন সরকার শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই হবে। পরিবর্তন করতে চাইলে সময় লাগবেই। নতুন সরকারকেও কিছুটা সময় দিতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে মূল্যায়নের সময় পটভূমি বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১৭০টি আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয়েছে। গৃহযুদ্ধ এড়ানো, অর্থনীতিকে ধস থেকে রক্ষা করা এবং একটি ভালো নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক রেখে আমাদের কাজ করতে হয়েছে।’

এ সময় উপদেষ্টা তাঁর কাজের মূল্যায়নের ভার সাংবাদিকদের হাতে ছেড়ে দেন।
জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, মূল সমস্যা হলো জ্বালানির অভাব। স্থলভাগে কূপ খনন করে নতুন করে ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করা হলেও উৎপাদন কমে গেছে ২০ কোটি ঘনফুটের বেশি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিলে আরেকটা আন্দোলন মোকাবিলা করতে হতো। তাই সম্ভাব্যতা যাচাই করে রাখা হয়েছে, পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এ ছাড়া সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির (পিএসসি) খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফাওজুল কবির খান বলেন, আগের চেয়ে অনেক কম খরচে এটি বসানো যাবে। নতুন সরকার এসে সিদ্ধান্ত নিলে দেড় বছরের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব।

ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আদানির চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এটি আইনিভাবে সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

বিদ্যুতের দাম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে একবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। দাম না বাড়িয়ে বরং খরচ কমানোর দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাড়তি খরচ চিহ্নিত করা হয়েছে।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির বলেন, নতুন সরকার এসে এসব খরচ কমাতে সমঝোতা করতে পারবে।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল দুর্নীতিযুক্ত কাঠামো থেকে বিদ্যুৎ খাতকে বের করে আনা। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির স্থাপত্য ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ‘কালা–কানুন’ হিসেবে পরিচিত বিশেষ বিধান আইন বাতিল করা হয়েছে এবং বিইআরসির হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এফইআরবি প্রকাশিত ‘এনার্জি ফর চেঞ্জ’ শীর্ষক সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন করেন উপদেষ্টা।