বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র
বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র

বিস্ফোরণে দগ্ধ চট্টগ্রামের তিন শিশু

‘একটা প্রাণ হলেও যাতে বাড়ি ফেরত নিতে পারি’

চট্টগ্রামে হালিশহরে একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনায় পরিবারের দগ্ধ নয়জনের মধ্যে বেঁচে থাকা তিন শিশু এখনো জানে না তাদের মা–বাবা নেই। তারা নিজেরাও এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তারা এখন রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে তাদের দেখাশোনা করছেন ফুফাতো ভাই নাজমুল হাসান (২৫)। তিনি বলেন, একে একে ছয়জন চলে গেছেন। এখন একটা প্রাণ হলেও যেন বাড়ি ফেরত নিতে পারেন, সেই আশা তাঁর। সুস্থ হলে শিশুরা দাদির কাছে থাকবে বলে জানান তিনি।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাটটিতে তখন ছিলেন তিন ভাই, বড় ও মেজ ভাইয়ের দুই স্ত্রী এবং তাঁদের চার সন্তান। বিস্ফোরণে এই নয়জনের সবাই দগ্ধ হয়। তাঁদের নেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন ভাই, দুই ভাইয়ের স্ত্রী এবং বড় ভাইয়ের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এখন চিকিৎসাধীন আছে বড় ভাইয়ের মেয়ে উম্মে আইমান (১০) এবং মেজ ভাইয়ের দুই ছেলে–মেয়ে ফারহান আহমেদ (৬) ও আয়েশা (৪)।

২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে হাসপাতালে আছেন নাজমুল হাসান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া তিন ভাই শাখাওয়াত হোসেন (৪৯), সামির আহমেদ (৪০) ও শিপন হোসেন (৩০)। নাজমুল বলেন, ‘আমরা তো হতাশার মধ্যে পড়ে গেছি। তা–ও হাসপাতালে পড়ে আছি, একটা প্রাণ হলেও যাতে বাড়ি ফেরত নিতে পারি।’

শিশুদের চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছেন শাখাওয়াত হোসেনের ফুফাতো ভাই মো. জামশেদ। তবে চিকিৎসা শেষে শিশুরা কোথায় ফিরবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নাজমুল বলেন, ‘ওদের তো কেউ থাকল না। মামারা বলে গেছে, আমাদের যদি কিছু হয়ে যায়, ওরা দাদির কাছে থাকবে।’ শাখাওয়াত বলেন, তাঁর নানি (শিশুদের দাদি) খোদেজা আক্তার নিজেই বার্ধক্যে ভুগছেন। বয়স ৭০ বছর। নানা বেঁচে নেই। এ অবস্থায় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা।

শিশুদের প্রত্যেকেরই কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফারহানকে আজ কেবিনে স্থানান্তর করা হবে। উম্মে আইমানের দুটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। আগামীকালে তার হাতে সর্বশেষ অস্ত্রোপচার করা হবে। শিশুদের মধ্যে সবার ছোট ৪ বছরের আয়েশা। তার অবস্থা অন্যদের থেকে কিছুটা জটিল। গতকাল থেকে তার জ্বর।

হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সোমেন সেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনাসের (ফারহান আহমেদ) শরীরের ১৯ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে (ফ্লেম বার্ন)। আজ তাকে কেবিনে নেওয়া হবে। স্নিগ্ধের (উম্মে আইমান) শরীরের ৩০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। আগামীকাল তার একটা অপারেশন হবে। আয়েশা এখনো বিপদমুক্ত হয়নি। গতকাল রাত থেকে জ্বরও আসছে।’

চিকিৎসক সূত্র আরও জানায়, শিশুদের আইসিইউ লাগছে না। ইনফেকশন এড়াতে বিশেষায়িত ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তবে তিনজনের কেউই শঙ্কামুক্ত নয়।