
দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে অবস্থিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এম সাখাওয়াত হোসেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কর্তৃক মনোনীত হয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি যখন প্রথম চীন নামের রাষ্ট্রে যাই, তখন দেশটি দেখে মনে হয়েছিল এরা কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আসতে পারবে না; কিন্তু এবার যখন চীনে গেলাম, তখন মনে হয়েছে বিশ্বের সব বিজ্ঞান, সব প্রযুক্তি এই দেশেই রয়েছে। একটি বন্দর দেখতে গেলাম। সেই বন্দরটি পরিচালিত হচ্ছিল তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ পাঁচ তরুণের মাধ্যমে। ওই পাঁচ তরুণ পুরো বন্দরটি পরিচালনা করছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে। আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিতে আরও বেশি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি থাকতে হবে, তাহলেই দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে জাতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হবে না, সেই জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না।’
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিশ্ব আজ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞাননির্ভর। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে এআই নিয়ে তারা গবেষণা ও প্রয়োগ করছে। তোমরা যারা আজ গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করেছ, বাংলাদেশকে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে তোমাদের ভূমিকা রাখতে হবে।’
সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আজকের তরুণ সমাজ অত্যন্ত সচেতন, মেধাবী, আধুনিক চিন্তাধারার ভান্ডার। আজ সারা বিশ্ব যেমনটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, ঠিক তেমন একটি রাষ্ট্র টিকে থাকার নির্ভরশীলতা উৎস তোমরা। তোমরা অনেকেই হয়তো জীবনে দ্রুত সফলতা পেতে চাও; কিন্তু জীবনে সফলতা নির্ভর করে ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের ওপর। পাশাপাশি নিজেকে আত্মবিশ্বাসের ওপর ধরে রাখতে হবে। নিজের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে, তা সফলতার দিকে অগ্রগতির দিকে ঠেলে দিতে হবে। জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে তা অর্জনের জন্য ক্রমাগত কাজ করতে হবে। তাহলে জীবনে সফলতা পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।’
এর আগে সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৩৫২ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন। সমাবর্তনকে ঘিরে সবাই ছিলেন উচ্ছ্বসিত। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সবুর খান। গেস্ট অব অনার ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুন্নাহার চৌধুরী।