সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক
সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে জয় ও পলকের অব্যাহতির আবেদন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলা থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

২১ জানুয়ারি এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে। আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক। জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক কারাগারে আছেন। আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

আবেদনে জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুনজুর আলম বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগে জয়ের ঠিকানা ও পরিচয় সঠিকভাবে উপস্থাপন করেনি প্রসিকিউশন। জয় ছিলেন শেখ হাসিনার অবৈতনিক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি–বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের নয়। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিদিনের কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না। তিনি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দিতেন। জয় কোনো নির্দেশদাতাও ছিলেন না। নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।

আইনজীবী মুনজুর আলম আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পলক ফেসবুকে যেসব পোস্ট করেছেন, সেসব জয়ের জ্ঞাতসারে আর নির্দেশে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ সেসব পোস্টে জয়কে ট্যাগ করেননি পলক। কিংবা জয় সেসব পোস্টে লাইক দেননি, মন্তব্যও করেননি। ফলে এসব ফেসবুক পোস্ট জয়ের জ্ঞাতসারে হয়নি।

এই আইনজীবী আরও বলেন, পলকের সঙ্গে সালমান এফ রহমানের কথা হয়েছে, কিন্তু সালমানের সঙ্গে জয়ের কথা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। জয়ের জ্ঞাতসারে ও নির্দেশে হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণও প্রসিকিউশন উপস্থাপন করতে পারেনি।

ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী মুনজুর আলম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত জয় কোনো বক্তব্য দেননি। ঘটনার সময় জয় দেশেও ছিলেন না। কবে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, সেটাও প্রসিকিউশন উল্লেখ করেনি।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গ্রাউন্ড নেই উল্লেখ করে মুনজুর আলম বলেন, এ মামলায় যাঁরা আসামি হওয়ার কথা ছিল, তাঁদের সাক্ষী করা হয়েছে। এ ছাড়া জয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে। তিনি যেকোনো সময় দেশে আসতে পারেন। তাঁর পথ প্রতিরোধ করার উদ্দেশে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অব্যাহতির আবেদনে জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের আইনজীবী এম লিটন আহমেদ বলেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ৯৭টি মামলা। ৮৯ দিন তিনি রিমান্ডে ছিলেন। যখন তাঁরা প্রিভিলেজড কমিউনিকেশনের (একান্ত সাক্ষাৎ) জন্য গিয়েছিলেন, তখনো ভার্চ্যুয়াল এক কার্যক্রমে পলককে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে।

লিটন আহমেদ আরও বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় গুজব বন্ধ করার জন্য ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।

জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের আইনজীবী বলেন, পলকের বক্তব্য কাঁটছাট করে উপস্থাপন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য আনলে ভিন্ন অর্থ দাঁড়াবে। তাঁর মক্কেল শান্তিশৃঙ্খলা বজার রাখার চেষ্টা করেছেন। আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেননি তিনি।