নিউইয়র্কে সদবি’সের নিলাম

বাংলাদেশি শিল্পীদের চিত্রকর্মের প্রভাব বাড়ছে

মনপুরা, কাগজে কালি ও জলরং, ১৯৭৪। জয়নুল আবেদিনের এই চিত্রকর্মটি সহ তিনটি চিত্রকর্ম নিলামে ওঠে
ছবি: সদবি’সের ওয়েবসাইট থেকে

আন্তর্জাতিক নিলামে বাংলাদেশের শিল্পীদের চিত্রকর্মের প্রভাব বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সদবি’সের আয়োজনে সদ্য অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশীয় আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকলা’র নিলামে এমন কৃতিত্বের উদাহরণ তৈরি হয়েছে। এই নিলামে ছিল বাংলাদেশের ৭ জন শিল্পীর ১১টি চিত্রকর্ম। যার মধ্যে পাঁচজন শিল্পীর চিত্রকর্মের নিলামেই দামের রেকর্ড হয়েছে।

স্থানীয় সময় ২৬ মার্চ নিউইয়র্কে সদবি’সের এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এই নিলামে ছিল রশীদ চৌধুরীর এ পর্যন্ত নিলাম হওয়া চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্যাপেস্ট্রি। ছিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি এবং মোহাম্মদ কিবরিয়ার আঁকা ‘বালক’ শিরোনামের চিত্রকর্ম। এ ছাড়া এস এম সুলতান, আমিনুল ইসলাম, শামসুল ইসলাম নিজামী ও শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকর্ম ছিল।

নিলাম প্রতিষ্ঠানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউইয়র্কে এই নিলামে মোট ২২ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৭১ কোটি টাকা) চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে। চিত্রকর্মের মোট ৭৩টি লট ছিল এই নিলামে। সব কটি চিত্রকর্ম বিক্রি হওয়ায় দক্ষিণ এশীয় আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকলার এই নিলামকে ‘হোয়াইট-গ্লাভ’ বলে চিহ্নিত করেছে সদবি’স। নিলামের বিশেষ সাফল্য বোঝাতে এই শব্দবন্ধনী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ৯৫ ভাগ চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে আনুমানিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে।

সদবি’সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলা বিভাগের ৩০ বছরের ইতিহাসে নিলাম থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় এসেছে। এই নিলাম বিষয়ে সদবি’সের দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলা বিভাগের কো-ওয়ার্ল্ডওয়াইড হেড মঞ্জরী সিহারে সুতিন বলেন, এই নিলাম দক্ষিণ এশীয় আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকলার জন্য ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যা এই চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্মের বিশ্বব্যাপী সমাদার ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিরই প্রমাণ। বিভিন্ন মহাদেশের অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক সাড়া ছিল এই আয়োজনে। এই নিলাম আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষিণ এশীয় শিল্পের দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান গতির প্রতিফলন ঘটায়।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন (জন্ম ১৯১৪-মৃত্যু ১৯৭৬)

নিলামে জয়নুল আবেদিনের তিন চিত্রকর্ম

নিলামে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের (জন্ম ১৯১৪-মৃত্যু ১৯৭৬) তিনটি চিত্রকর্ম ছিল। এর মধ্যে একটি চিত্রকর্ম ১৯৬৫ সালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি। এই চিত্রকর্ম কবি সুফিয়া কামাল ও কামালউদ্দীন আহমদ খানকে ১৯৬৮ সালে উপহার দিয়েছিলেন শিল্পী নিজেই। পরে এটি তাঁদের সন্তান সাজিদ কামালের সংগ্রহে যায়। নিলামে এই চিত্রকর্ম বিক্রি হয় ৮৩ হাজার ২০০ ডলারে (প্রায় এক কোটি দুই লাখ টাকা)।

১৯৬৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাজিদ কামালের সংগ্রহে থাকা জয়নুল আবেদিনের ১৯৭৪ সালে আঁকা মনপুরা পর্বের আরেকটি চিত্রকর্ম ছিল এই নিলামে। সাজিদ কামাল ও রোজমেরি কামাল বিয়ের পর দেশে এলে ১৯৭৪ সালেই চিত্রকর্মটি উপহার দিয়েছিলেন শিল্পী। এই চিত্রকর্ম বিক্রি হয় ৬১ হাজার ৪৪০ ডলারে (প্রায় ৭৫ লাখ টাকা)।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাগজে কালি ও জলরং, ১৯৬৫। শিল্পী: জয়নুল আবেদিন

এসব চিত্রকর্ম নিলাম প্রসঙ্গে সাজিদ কামাল বলেন, ‘অনেক ভাবনাচিন্তা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চেয়েছি, চিত্রকর্মগুলো নতুন কারও সংগ্রহে যাক—ভালোভাবে সংরক্ষণ হোক। অনেক বছর ধরে আমরা কাজগুলো যত্নের সঙ্গে রেখেছি।’ শিল্পাচার্যের সঙ্গে সুফিয়া কামাল ও কামালউদ্দীন আহমদ খানের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই তাঁর সান্নিধ্য পেয়ে আমরা বড় হয়েছি। এটা আমার জীবনের মূল্যবান সঞ্চয়।’

মাছ, কাগজে কালি-জলরং-মোম, ১৯৭০। শিল্পী: জয়নুল আবেদিন

নিলামে আরও ছিল জয়নুল আবেদিনের ১৯৭০ সালে আঁকা মাছ নিয়ে একটি চিত্রকর্ম। এটি বিক্রি হয়েছে ৫৭ হাজার ৬০০ ডলারে (প্রায় ৭০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা)। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্য আরিজোনার এক সংগ্রাহকের কাছ থেকে এই চিত্রকর্ম নিলামে এসেছে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে সদবি’সের আধুনিক ও সমকালীন দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলার অনলাইন নিলামে এই চিত্রকর্ম নিলাম হয়েছিল। সে সময় এক ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছ থেকে এটি নিলামে এসেছিল। এর আগে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল চিত্রকর্মটি।

এস এম সুলতান (জন্ম ১৯২৩-মৃত্যু ১৯৯৪)

এস এম সুলতানের ‘গ্রামীণ জীবন’

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের (জন্ম ১৯২৩-মৃত্যু ১৯৯৪) ‘গ্রামীণ জীবন’ শিরোনামে একটি চিত্রকর্ম ছিল নিলামে। ১৯৮৯ সালে আঁকা এই চিত্রকর্ম বিক্রি হয় ৫১ হাজার ২০০ ডলারে (প্রায় ৬২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা)। নিলামের জন্য উত্তর আমেরিকার এক ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছ থেকে চিত্রকর্মটি সংগ্রহ করা হয়। ১৯৯০ সালের দিকে চিত্রকর্মটি ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

গ্রামীণ জীবন, ক্যানভাসে তেলরং, ১৯৮৯। শিল্পী: এস এম সুলতান

মোহাম্মদ কিবরিয়ার তিন চিত্রকর্ম

সদবি’সের এই নিলামে ছিল মোহাম্মদ কিবরিয়ার (জন্ম ১৯২৯-মৃত্যু ২০১১) একটি ব্যতিক্রমী চিত্রকর্ম। তাঁর বিমূর্ত পর্বের কাজ শুরু হওয়ার আগের পর্বের ‘বালক’ শিরোনামের চিত্রকর্ম এটি। ১৯৫৭ সালে আঁকা এই চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে ৫৭ হাজার ৬০০ ডলারে (প্রায় ৭০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা)। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে এক ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছ থেকে এই চিত্রকর্ম নিলামের জন্য এসেছিল। এই চিত্রকর্ম ২০১৫ সালে ম্যাসাচুসেটসের বিশ্বখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান স্কিনার (বনহ্যামস স্কিনার)-এ নিলাম হয়েছিল।

চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া (জন্ম ১৯২৯-মৃত্যু ২০১১)

এই চিত্রকর্ম সম্পর্কে চিত্রশিল্পী শহিদ কবীর বলেন, ছবিটি খুবই মমতা মিশিয়ে আঁকা। সম্ভবত মধ্যবিত্ত পরিবারের শীতকালে স্কুলে যাওয়া বালকের ছবি তিনি এঁকেছেন। ছেলেটির চোখ দুটি আঁকার ধরন দেখলেই এই ছবির গভীর অনুভূতি অনুভব করা যায়। ছবিটি দেখে বোঝা যাচ্ছে না ছেলেটির হাতে ধরে থাকা গ্লাসে পানি আছে কি নেই। কিবরিয়া স্যার নিজেও একসময় ভি কলারের সোয়েটার পরতে ভালোবাসতেন। এই বালকের পরনেও রয়েছে ভি কলারের সোয়েটার। বালকের পেছনে থাকা জানালাগুলো এমন করে এঁকেছেন, তাতে কম্পোজিশনের মুনশিয়ানা আছে।

বালক, বোর্ডে তেলরং, ১৯৫৭। শিল্পী: মোহাম্মদ কিবরিয়া

মোহাম্মদ কিবরিয়ার বিমূর্ত পর্বের দুটি চিত্রকর্মের মধ্যে ১৯৯১ সালে আঁকা ‘শিরোনামহীন’ শিরোনামে চিত্রকর্মটি বিক্রি হয়েছে ৩২ হাজার ডলারে (প্রায় ৩৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা)। চিত্রকর্মটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অঙ্গরাজ্য টেনিসির এক সংগ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা।

শিরোনামহীন, ক্যানভাসে তেলরং, ১৯৯১। শিল্পী: মোহাম্মদ কিবরিয়া

১৯৯২ সালে এই চিত্রকর্ম সরাসরি শিল্পীর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন টনি কে স্টুয়ার্ট। আর মোহাম্মদ কিবরিয়ার ১৯৬৬ সালে আঁকা ‘শিরোনামহীন’ শিরোনামে আরেকটি চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে ৩২ হাজার ডলারে (প্রায় ৩৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা)। এ চিত্রকর্মটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য আটলান্টিক এলাকার অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডে এক সংগ্রাহকের কাছ থেকে নিলামের জন্য এসেছে। এই সংগ্রাহক ২০১৫ সালে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার একটি সম্পত্তি নিলাম থেকে এই চিত্রকর্ম সংগ্রহ করেছিলেন।

পেইন্টিং ইন ইয়েলো, ক্যানভাসে তেলরং, ১৯৬৬। শিল্পী: মোহাম্মদ কিবরিয়া
চিত্রশিল্পী আমিনুল ইসলাম (জন্ম ১৯৩১-মৃত্যু ২০১১)

আমিনুল ইসলামের শিরোনামহীন চিত্রকর্ম

চিত্রশিল্পী আমিনুল ইসলামের (জন্ম ১৯৩১-মৃত্যু ২০১১) বিমূর্ত শৈলীর শুরুর পর্বের একটি চিত্রকর্ম নিলাম হয়েছে এবারের আয়োজনে। শিরোনামহীন শিরোনামে ১৯৬০ সালে আঁকা এই চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪০ ডলারে (প্রায় ৪৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা)।

শিরোনামহীন, বোর্ডে তেলরং, ১৯৬০, শিল্পী: আমিনুল ইসলাম

সদবি’সের ওয়েবসাইট থেকে জানা যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এক পরিবারের সংগ্রহ থেকে এই চিত্রকর্ম নিলামের জন্য এসেছে। ১৯৮০ সালের দিকে সরাসরি শিল্পীর কাছ থেকে এই চিত্রকর্ম সংগ্রহ করেন এক সংগ্রাহক। এরপর আবার ২০২৪ সালে আরেক সংগ্রাহক চিত্রকর্মটি সংগ্রহ করেন।

রশিদ চৌধুরী (জন্ম ১৯৩২-মৃত্যু ১৯৮৬)

রশীদ চৌধুরীর ট্যাপেস্ট্রি

বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলায় ট্যাপেস্ট্রি–মাধ্যমটি সংযোজন করেন রশীদ চৌধুরী (জন্ম ১৯৩২-মৃত্যু ১৯৮৬)। এই নিলামে ছিল ‘শিরোনামহীন’ শিরোনামে শিল্পীর ১৯৭৭ সালে বয়ন করা একটি ট্যাপেস্ট্রি। বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬০০ ডলারে (প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা)।

শিরোনামহীন, ট্যাপেস্ট্রি, ১৯৭৭। শিল্পী: রশীদ চৌধুরী

উত্তর আমেরিকার এক খ্যাতিমান সংগ্রাহকের কাছ থেকে এই ট্যাপেস্ট্রি নিলাম আয়োজনে আনা হয়েছিল। ১৯৮০ সালের দিকে এক সংগ্রাহক সরাসরি শিল্পীর কাছ থেকে এই ট্যাপেস্ট্রি সংগ্রহ করেন। পরে ১৯৯০ সালের দিকে ট্যাপেস্ট্রিটি সংগ্রহ করেন আরেক সংগ্রাহক। এই শিল্পকর্ম এ পর্যন্ত নিলাম হওয়া রশীদ চৌধুরীর সবচেয়ে বড় ট্যাপেস্ট্রি।

চিত্রশিল্পী শামসুল ইসলাম নিজামী (জন্ম ১৯৪০-মৃত্যু ১৯৯৮) আর্ট কলেজে শিক্ষকতার সময়

নিলামে ছিল শামসুল ইসলাম নিজামীর ১৯৮০ সালে আঁকা চিত্রকর্ম

বিমূর্ত শৈলী ও সিরামিকস মাধ্যমে স্বকীয়তা অর্জন করা চিত্রশিল্পী শামসুল ইসলাম নিজামীর (জন্ম ১৯৪০-মৃত্যু ১৯৯৮) একটি বাস্তবধর্মী চিত্রকর্ম নিলাম হয়েছে। শিরোনামহীন শিরোনামে এই চিত্রকর্মটি ১৯৮০ সালে আঁকা। বিক্রি হয়েছে ১১ হাজার ৫২০ ডলারে (প্রায় ১৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা)।

শিরোনামহীন, ক্যানভাসে তেলরং, ১৯৮০। শিল্পী: শামসুল ইসলাম নিজামী

সুপরিচিত পারিবারিক সংগ্রহ থেকে এই চিত্রকর্ম নিলামের জন্য আনা হয়েছিল ১৯৮০ সালের দিকে সরাসরি। শিল্পীর কাছ থেকে এই চিত্রকর্ম সংগ্রহ করেন এক সংগ্রাহক। পরে ২০২৪ সালে এই চিত্রকর্ম আবার এক সংগ্রাহক সংগ্রহ করেন। ২০২৫ সালে ঢাকায় স্টুডিও সিক্সবিতে একটি যৌথ প্রদর্শনীতে এই চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। এবারই প্রথমবারের মতো শামসুল ইসলাম নিজামীর চিত্রকর্ম সদবি’সের নিলামে স্থান করে নেয়।

চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ

শাহাবুদ্দিন আহমেদ চিত্রকর্ম ‘রিফ্লেকশন’

চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের সুপরিচিত ও বিষয়শৈলী থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্রকর্ম এবার নিলাম হয়েছে। ‘রিফ্লেকশন’ শিরোনামে ২০১২ সালে আঁকা এই চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ৬৪০ ডলারে (প্রায় ৫৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা)।

উত্তর আমেরিকার এক সংগ্রাহকের কাছ থেকে এই চিত্রকর্ম নিলামের জন্য আনা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ফ্রান্সের কার্সেসে জাস দে লা রিমাডে গ্যালারি দ’আর্ত থেকে চিত্রকর্মটি সংগ্রহ করা হয়। এর আগে দ’আর্ত-এ ‘স্বাধীনতা’ শিরোনামে শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের একক চিত্র প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে এই চিত্রকর্ম।

রিফ্লেকশন, ক্যানভাসে তেলরং, ২০১২। শিল্পী: শাহাবুদ্দিন আহমেদ

নিলামের মূল্যতালিকায় নতুন বিশ্ব রেকর্ড

এবারের আয়োজনে ১২ শিল্পীর চিত্রকর্মের নিলামে রেকর্ড হয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে আছেন এস এম সুলতান, আমিনুল ইসলাম, রশীদ চৌধুরী, শামসুল ইসলাম নিজামী ও শাহাবুদ্দিন আহমেদ। অন্য শিল্পীরা হলেন বিভান সুন্দরম, কে সি এস পানিকর, ভেলু বিশ্বনাথন, কাটিঙ্গেরি কৃষ্ণ হেব্বার, ওম প্রকাশ শর্মা, সরদার গন্ডা ঠাকুর সিং এবং ফ্রিডা হাউসওয়ার্থ দাস।

নিলামে ছিল ভারতের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের ১৯৫৮ সালে আঁকা ‘সেকেন্ড অ্যাক্ট’ চিত্রকর্মটি। নিলামে এটা নিয়ে ছয় মিনিট ধরে চলে শিল্প সংগ্রাহকদের মধ্যে তীব্র লড়াই। শেষ পর্যন্ত চিত্রকর্মটি বিক্রি হয় ৫১ লাখ ২২ হাজার ডলারে (প্রায় ৬২ কোটি ৮১ লাখ টাকা)।

নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নিলামে বিশ্বের ২০টির বেশি দেশ থেকে শিল্প সংগ্রাহকেরা অংশগ্রহণ করেন। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এই নিলামে যোগ দিয়েছিলেন সংগ্রাহকেরা।