অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ৭৫ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে করা মামলাটি তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছেন আগের মামলার বাদী সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। এ মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে মামলাটি করেন ফ্যাশন ডিজাইনার, ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলা গ্রহণ করেন এবং আগামী ২৩ নভেম্বর আসামিকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শনোর নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন তানজিন তিশা। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
আজকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা করেন বাদী। মামলা দায়েরের পর আসামি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন এবং ক্ষতি করার ভয় দেখান। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে গতকাল রোববার ২৫ অক্টোবর তিনি আদালতে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁকে (বাদি) মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাঁকে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে নিকটস্থ থানায় মামলা করতে গেলে তাঁকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মামলার বাদী সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা করলে সে আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। আমায় ভয় দেখায়। এই মামলার পুনঃ তদন্ত গতকাল সিআইডির কাছে গেছে। আমার বাসায় লোকজন পাঠিয়ে হুমকি দিচ্ছে।’