হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

ধর্ষণ–হত্যা মামলার বিচারে ধীরগতি

হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, হাজিরা থেকে অব্যাহতি

সাড়ে চার বছরেও ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে করা একটি মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় বিষয়টি নজরে এলে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩–এর বিচারককে আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

ওই আদেশ অনুসারে বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ মঙ্গলবার উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দাখিল করেন ট্রাইব্যুনাল-৩–এর বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা।

শুনানি নিয়ে ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হওয়ায় আদালত ওই বিচারককে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানায় ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর একটি মামলা হয়। মামলায় ধর্ষণ ও ভুক্তভোগীকে গলায় চাকু মেরে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের মামলা হিসেবে রেজিস্টারভুক্ত হয়। একই বছর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়।

ওই মামলার আসামি গোলাম হোসেন জামিন চেয়ে চলতি বছর হাইকোর্টে আবেদন করেন। আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, জামিন আবেদনের শুনানিতে সাড়ে চার বছরেও মামলাটির বিচার শেষ না হওয়ার বিষয়টি নজরে এলে ৯ জুন হাইকোর্ট এ বিষয়ে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩–এর বিচারককে ২৩ জুন (আজ মঙ্গলবার) আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে আদেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দাখিল করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির। আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির প্রথম আলোকে বলেন, বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা হবিগঞ্জের ট্রাইব্যুনাল-৩ বিচারক হিসেবে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ধার্য তারিখে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় তিনি বেশ কয়েকবার সাক্ষী হাজিরের জন্য পরোয়ানা জারি করেছেন বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন। ইতিমধ্যে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি সমন ইস্যু করা হয়েছে। তিনি মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সচেষ্ট বলেও উল্লেখ করেছেন।

ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হওয়ায় হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, আদালত আসামি গোলাম হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেননি। পরবর্তী আদেশের জন্য ১০ আগস্ট তারিখ রেখেছেন।